অভিনেত্রী সায়ন্তনী গুহঠাকুরতার জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের অত্যন্ত কাছের একজন মানুষকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন তাঁর প্রিয় পিসি, যাঁকে ছোটবেলা থেকেই নিজের মায়ের মতোই মনে করতেন অভিনেত্রী। এই আকস্মিক ক্ষতিতে স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ সায়ন্তনীর। কাছের মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা যে কতটা গভীর হতে পারে, অভিনেত্রীর কথাতেই উঠে এসেছে সেই অনুভূতি। পরিবারের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক বরাবরই দৃঢ় ছিল। আর সেই কারণেই এই মৃত্যু তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে পরিবার নিয়েই সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কান্নাভেজা গলায় নিজের মনের কথা ভাগ করে নেন সায়ন্তনী। তিনি জানান, “মাম্মাম আমার পিসিমণি। ছোটবেলায় প্রথম মা ডাক ওঁকেই ডেকেছিলাম।” এই একটি বাক্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁদের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল। শুধু পিসি নন, জীবনের নানা মুহূর্তে একজন অভিভাবকের মতোই পাশে পেয়েছেন তাঁকে। শৈশবের বহু স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন সেই মানুষটি। তাই তাঁর চলে যাওয়া অভিনেত্রীর জীবনে এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। পরিবারের সকলে এখনও এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
পিসির অসুস্থতার কথাও জানিয়েছেন সায়ন্তনী। অভিনেত্রীর কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়ালিসিস চলছিল তাঁর। শারীরিকভাবে খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি। শেষ সময়টাও পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশেই ছিলেন। সায়ন্তনী বলেন, “শেষ সময়ে আমার হাত ধরেছিল।” সেই মুহূর্ত এখনও ভুলতে পারছেন না অভিনেত্রী। প্রিয়জনের মৃত্যুর পরে অনেকক্ষণ তাঁর হাত ধরে বসে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এমন আবেগঘন অভিজ্ঞতা সহজে ভোলার নয়। কাছের মানুষের বিদায় যে কতটা অসহনীয় হতে পারে, সেই ছবিই ধরা পড়েছে অভিনেত্রীর কথায়।
মডেলিং জগত থেকেই পরিচিতি পেয়েছিলেন সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা। বিশেষ করে প্রিন্ট মডেল হিসেবে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে গত কয়েক বছরে অভিনয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। বড়পর্দা থেকে শুরু করে ওয়েব সিরিজ, একাধিক প্ল্যাটফর্মে এখন নিয়মিত কাজ করছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে মডেলিংও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানভাবে। নিজের পেশাগত জীবনে ব্যস্ততা থাকলেও পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই ছিল খুব কাছের। তাই ব্যক্তিগত জীবনের এই ক্ষতি তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
আরও পড়ুনঃ শোভনদেবের সমর্থনে জমা পড়া নথিতেই জা’ল সইয়ের অভিযোগ! নয়না থেকে বাহরুলদের বাড়িতে CID হানা ঘিরে বাড়ছে চাপানউতোর, “সইটা কে করল?” তাহলে কি তৃণমূলের অন্দরের গোপন দ্ব’ন্দ্বই কি এবার প্রকাশ্যে চলে এল?
বর্তমানে অভিনেত্রীর অনুরাগীরাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও অনেকেই সমবেদনা জানিয়েছেন সায়ন্তনীকে। কঠিন এই সময়ে পরিবারকে শক্ত থাকার বার্তাও দিয়েছেন অনেকে। জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয়জনের চলে যাওয়া যে মানুষকে থমকে দেয়, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এখন সময় কাটছে অভিনেত্রীর। কাছের মানুষ হারানোর যন্ত্রণা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। পিসির সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতি বারবার ফিরে আসছে তাঁর মনে। সেই স্মৃতিই এখন সায়ন্তনীর কাছে সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।






