স্কুলে নাকি ভূত দেখেছিল সে। তা দেখার পর থেকেই বাড়িতে এসে সেই আতঙ্কে ছটপট করছিল তৃতীয় শ্রেণীর পড়ুয়া রিমি মণ্ডল। সার সেই আতঙ্ক থেকেই মৃত্যু হল তার। ঘটনাটি ঘটেছে সিউড়ির কাঁকড়তলার বাবুইজোড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শনিবার ওই স্কুলের পড়ুয়ার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর জেরে বেশ রহস্য ঘনিয়েছে। কীভাবে ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। জানা গিয়েছে, সেদিন মিড ডে মিলের থালা রাখতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীরা বলতে থাকে যে তারা ভূত দেখেছে। সেই থেকে হঠাৎ স্কুলে ভূতের আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী ঘোষ জানান, “আমরা সঙ্গে সঙ্গে স্কুল পড়ুয়াদের জানিয়ে দিই যে ভৌতিক কিছু নয়”। কিন্তু এরপরও মেটেনি সমস্যা। গত দু’দিন স্কুল পড়ুয়ারা ভূতের ভয়ে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। তিনশো ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে গত শনিবার স্কুলে উপস্থিত ছিল মাত্র ২৫ জন পড়ুয়া।
কোনও কোনও পড়ুয়া দাবী করে যে তাদের নাকি এক ছায়া ধরতে আসছিল। আর এসবের মধ্যেই অচৈতন্য হয়ে পড়ে দুই পড়ুয়া। শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার পর থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে তৃতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রী রিমি মণ্ডল। তড়িঘড়ি তাকে ভর্তি করা হয় সিউড়ি হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতাল সূত্রে খবর, ভোরের দিকে মৃত্যু হয় রিমির।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে রিমির মা দিয়া মণ্ডল বলেন, “আমার মেয়ে ভূত দেখে ভিড়মি খেয়ে যায়। সেই থেকে অসুস্থ হয়ে যায়। তারপর আমরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মেয়েটা মারা যায়”। এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে যে ওই পড়ুয়ার নাকি মৃগী রোগ ছিল।
এই বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক বলেন, “আমরা খবরটা পেয়েছি। সোমবার বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীদের নিয়ে ওই স্কুলে যাব। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে”। আবার এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মী শুভাশিস গড়াই জানিয়েছেন, “ভূত বলে কিছু নেই। ছাত্রীর মৃত্যু খুব দুঃখজনক হলেও এর পিছনে ভৌতিক কোনও কারণ নেই। স্কুলে গিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের তা বোঝাতে হবে। যারা প্রথম ভূত দেখেছিল বলে বলছে, তারা আসলে কী দেখেছিল তা জানা দরকার”।





