এগরায় বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজ্য-রাজনীতি বেশ উত্তপ্ত। আজ, বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। এদিন এগরায় গিয়ে তিনি শাসক দলকে বেলাগাম তোপ দাগেন। এর কিছু পর সেখানে পৌঁছয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন মানস ভুঁইয়া, দোলা সেন, সৌমেন মহাপাত্র, বিপ্লব রায় চৌধুরীরা। কিন্তু তাদের দেখেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষুব্ধ জনতা।
সূত্রের খরর, তৃণমূলের প্রতিনিধি দল এগরায় পা রাখার পরই প্রথমে ঘটনাস্থলের দিকে যান তারা। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন, এমনটাই পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু সেখানে যাওয়ার সময় হঠাৎই গ্রামবাসীদের একাংশ তাদের ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে শুরু করে। তাদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। ‘তৃণমূল হটাও দেশ বাঁচাও’, ‘চোর হটাও’, এই ধরনের নানা স্লোগান উঠতে থাকে। বিক্ষোভের মাঝে পড়ে দ্রুত গাড়ির দিকে ফিরে যান মানস ভুঁইয়া সহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মানস ভূঁইয়া বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসেছিলাম। কিন্তু কিছু রাউডি অশান্তি পাকানোর ছক কষছিল। আমরা কোনও প্ররোচনায় পা দিইনি। নিহত এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা ফিরে যাচ্ছিদয়ালু মানবিক মুখ্যমন্ত্রী তিনি সমস্ত ব্যাপারে পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু, যাঁরা চক্রান্ত করছে তাঁরা চিহ্নিত হবে”।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে দিয়ে ওই ঘটনার তদন্তের দাবী করেন। এর পাশাপাশি, শুভেন্দুর অভিযোগ, ওই বাজি কারখানার মালিক ভানু বাগ ‘তৃণমূলের বড় নেতা’। ওই কারখানায় শুধু বাজি নয়, বোমাও তৈরি হত। পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে সেগুলো তৃণমূলকে সরবরাহ করতেন ভানু, এমনটাই দাবী শুভেন্দুর। এই ঘটনায় তিনি পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবী করেন।
অন্যদিকে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শাসক দল ও প্রশাসনের উপর যে এগরার ওই গ্রামের বাসিন্দাদের বেশ ক্ষোভ রয়েছে, তা আজকের ঘটনা থেকে স্পষ্ট। বলে রাখি, বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ভানু বাগ, তাঁর ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং ভানুর স্ত্রীর নামে ইতিমধ্যেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮, ৩০৪, ২৮৬ ও ফায়ার সার্ভিসেস অ্যাক্টের ২৪ ও ২৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।





