পঞ্চায়েত ভোট মিটে গিয়েছে দু’সপ্তাহ হতে চলল কিন্তু তাও মুর্শিদাবাদে ভোট পরবর্তী হিংসা যেন থামছেই না। ফের বোমাবাজির জেরে উত্তপ্ত হল মুর্শিদাবাদের রানিনগর ডেপুটিপাড়া। গতকাল, রবিবার রাতে বোমাবাজির জেরে হাত-পা উড়ল কংগ্রেস কর্মীর। বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
কংগ্রেসের অভিযোগ, তৃণমূলই বোমাবাজি করেছে। গতকাল, রবিবার রাতে কংগ্রেস কর্মীর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি চালায় তৃণমূল। গুলিও চলে এর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, সেই সময় কংগ্রেস কর্মী রেন্টু শেখ বোমা নিয়ে দৌড়নোর সময় তা ফেটে যায়। এই ঘটনায় তাঁর হাত-পা গুরুতর জখম হয়েছে। আবার তৃণমূলের দাবী, কংগ্রেস কর্মীরাই বোমাবাজি করেছে।
এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। এক তৃণমূল কর্মীও জখম হয়েছে বলে দাবী করেছে ঘাসফুল শিবির। জখমদের প্রথমে রানিনগরের গোধনপাড়া ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু তাদের অবস্থা খারাপ হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কংগ্রেস কর্মী রেন্টু শেখের অবস্থা বেশ শোচনীয় হওয়ার জেরে সোমবার সকালেই তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে খবর।
কী বক্তব্য কংগ্রেস কর্মীর স্ত্রীর?
এই ঘটনায় জখম রেন্টু শেখের স্ত্রী ইতিনা বিবি বলেন, “ভোটে এলাকায় কংগ্রেস-সিপিএম জোট প্রার্থীর জয় হওয়ার পর থেকেই বাড়ির সামনে তৃণমূলের লোকেরা আড্ডা মারে। আজ হঠাৎ করেই রাতের বেলায় বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করে ও গুলি করেছে। তাতেই আমার স্বামী জখম হয়েছে”।
অন্যদিকে আবার তৃণমূলের রানিনগর ২ ব্লকের সভাপতি শাহ আলম সরকার জানান, “রাস্তার ধারে বাড়ি। গরমে পাড়ার লোকজন মাচানে বসে থাকে। কিন্তু কংগ্রেসের ওই সব বাড়ির লোকজন ভোটে জেতার পর থেকেই তৃণমূলের লোকেদের লক্ষ্য করে গালমন্দ করে। কালকেও করেছে। ওই ঝটমার প্রতিবাদ করলে রেন্টু শেখের ভাইপো প্রথমে বোমা মারে। তাতেই আততারী মণ্ডল জখম হয়। ঘটনায় লোকজন পালাতে থাকে। ওই সময় আবার বোমা নিয়ে দৌড়াবার সময় পড়ে গিয়ে নিজের বোমা ফেটে রেন্টু শেখ জখম হয়েছে। তৃণমূলের কেউ বোমা মারেনি”।
তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব জাহাঙ্গীর ফকিরের পাল্টা দাবী, “ওই অভিযোগ ঠিক নয়। ঘটনার সময় রেন্টু শেখ মসজিদে নমাজ পড়ে বাড়ি যাচ্ছিল। তখনই তাকে বোমা মারা হয়েছে। যার জেরে তার বাম হাত ও বাম পায়ের জঙ্ঘা জখম হয়েছে”।






