বেশ জটিল অবস্থা প্রসূতির। সরকারি হাসপাতালে প্রসব করানো সম্ভব নয়। এই কারণে নার্সিং হোমে সিজার করানোর আশ্বাস দিয়ে নেওয়া হয় ১২ হাজার টাকা, এমনই দাবী করেছেন প্রসূতির স্বামী। কিন্তু গত বুধবার প্রসবের পর দেখা গেল যে নার্সিং হোম বলে যেটি চালানো হয় সেটি আসলে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেক্স লেডি ডাফরিন হাসপাতাল।
এরপরই প্রসূতির স্বামী মুচিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের স্নাতকোত্তর স্তরের এক পড়ুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান তিনি। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজিরও।
কলকাতা মেডিক্যালেরই চুক্তিভিত্তিক কর্মী রাজু মহেশের দাবী করেন যে স্ত্রী পুতুল হাজরার বিষয়ে তিনি পরিচিত চিকিৎসক রাজেশ বিশ্বাসের পরামর্শ নিতেন। রাজুর কথায়, “রাজেশ বলেছিলেন জটিল সমস্যার কারণে নার্সিংহোমে সিজ়ার করাতে হবে। নির্মল মাজিকে বলে তিনি টাকা কমিয়ে দিচ্ছেন”। ওই যুবকের দাবী গত বুধবার জোর করে সিজ়ার করেন রাজেশ।
রাজুর অভিযোগ, “পরে বুঝতে পারি ওটা সরকারি হাসপাতাল। তখন টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে বচসা হয়”। যদিও রাজেশের পাল্টা দাবী, “ওই রোগীর স্বামীকে চাপ দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করানো হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নির্মলবাবুর নাম জড়ানো হচ্ছে”। এদিকে নির্মল মাজি বলেন, “তদন্ত চলছে। তাতেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে”।
এদিকে আবার রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ, নিয়োগ সব নিয়ে মোট চার দফা দাবী তুলে গতকাল, শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল ফার্মাসিস্টদের সাতটি সংগঠন। সেই কর্মসূচিকে অবৈধ দাবী করে তাতে যাতে ফার্মাসিস্টরা যোগ না দেন, তা নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন ফার্মাসি কাউন্সিলের সভাপতি নির্মল মাজি, এমন অভিযোগও উঠেছে।
এই বিষয়ে যৌথ মঞ্চের তরফে আহ্বায়ক প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সভাপতি এমন বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন না। ভয় পেয়েই এই বিজ্ঞপ্তি”। ফার্মাসিস্টদের অভিযান প্রসঙ্গে নির্মল মাজির মন্তব্য, “প্রতিদিন জেলা থেকে ফার্মাসিস্টরা রেজিস্ট্রেশন নবীকরণ করাতে আসেন। সেই কর্মসংস্কৃতি যাতে ব্যাহত না হয়, তাই এই বিজ্ঞপ্তি”।





