ক্লাবকে ৮৫ হাজার টাকা অনুদান মমতার কিন্তু চাকরি দেওয়ার উচ্চবাচ্য নেই, ক্লাবগুলি ভোট বাক্স বলেই কী এত অনুদান বছর বছর?

পুজো শুরু হতে আর মাত্র ৭৬ দিন বাকি। পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনিক স্তরেও তৎপরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল পুজো কমিটিগুলোর সাথে একটি বৈঠক করেন এবং ঘোষণা করেন যে রাজ্য সরকার এবছরও ক্লাবগুলোকে অনুদান দেবে।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই বছরের পুজোতে রাজ্য সরকার প্রতিটি পুজো কমিটিকে ৮৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেবে। এই ঘোষণার পরই বিরোধীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের স্কুলগুলোতে শিক্ষক নেই, নিয়োগ বন্ধ, চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তায় বসে আছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন রাজ্যের অর্থ নেই, তবে কেন এই অনুদান? প্রতি বছরই অনুদানের পরিমাণ বাড়ছে কেন?

রাজ্যের অনুদানে কত খরচ হচ্ছে? এই খরচে কত চাকরি সৃষ্টি সম্ভব?

মা দুর্গা কৈলাস থেকে মর্ত্যে আগমনের আগেই বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। কারণ, আগের বছরের তুলনায় এ বছরের অনুদান ১৫ হাজার টাকা বেড়ে ৮৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। যেখানে আগের বছর ছিল ৭০ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী আগামী বছরে আরও ১৫ হাজার টাকা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার স্বীকার করেছেন যে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি আগেই বলেছেন যে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য টাকা চাইলেই পাওয়া যাবে না। তবুও, মেলা, খেলা এবং অনুদানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

পুজোর অনুদানের পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী ক্লাবগুলোর বিদ্যুতের বিলেও ৭৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা বলেছেন। যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। বিরোধীদের প্রশ্ন, অর্থনৈতিক সমস্যার মাঝেও কেন ক্লাবগুলোকে এত বড় অনুদান দেওয়া হচ্ছে এবং তা প্রতি বছর কেন বাড়ানো হচ্ছে? ৪৩ হাজার রেজিস্টার্ড ক্লাব পিছু অনুদান ৮৫ হাজার টাকা হলে রাজ্যের কোষাগার থেকে ৩৬৫ কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে। গত বছর এই খাতে খরচ হয়েছিল ২৮০ কোটি টাকা, অর্থাৎ এক বছরেই খরচ বেড়েছে ৮৫ কোটি টাকা।

বিরোধীরা বলছেন, রাজ্যে আয় নেই, কিন্তু মেলা-খেলা-উত্সবের জন্য বিলাসিতা চলছে। পুজোর অনুদানে প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অথচ রাজ্যে নিয়োগ নেই। নতুন শিক্ষকদের মাসিক বেতন ৪৫,০০০ টাকা। এক বছরের বেতন ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এই ৩৬৫ কোটি টাকায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষকের এক বছরের বেতন হয়ে যেত।

স্বভাবতই, পুজো উদ্যোক্তারা বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে খুশি। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন অর্থাভাবের কথা, ক্লাবগুলিকে কিনে ভোটের সময় সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিনা? কেন এই বিপুল অর্থ উন্নয়ন বা নিয়োগে ব্যবহার করা হচ্ছে না? বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন।

RELATED Articles