সন্তান যে কোনও মা-বাবার কাছের সবথেকে প্রিয় ও অমূল্য হয়। কিন্তু সেই মা-বাবাই এবার নিজেদের নেশার টাকা জোগাড় করতে কোলের একরত্তি সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন। এমনই অভিযোগ উঠল পানিহাটির এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধীনগর অঞ্চলে। সেখানে নিজের ছ’মাসের ছেলেকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র গতকাল, শনিবার রাতে খড়দহ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত মা সাথী চৌধুরী ও শিশুটির ঠাকুরদা কানাই চৌধুরীকে। কিন্তু এখনও শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিশুটির বাবা-মা দিনভর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। অনেক ছেলে মেয়ে প্রতিদিন আসত তাদের বাড়িতে। অসামাজিক কাজকর্ম চলত। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও এই অসামাজিক কাজ বন্ধ করেনি তারা। নেশার টাকার জন্য দিনরাত সাথীর ওপর তার স্বামীর অত্যাচার চলত। স্বামীর নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেন সাথী।
১১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতা তারক গুহ জানিয়েছেন, গতকাল, শনিবার রাতে জয়দেব নিজের মেয়েকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। সেই নিয়ে অশান্তি বাঁধে। তারপর বিষয়টি জানাজানি হয়। তিনি আরও জানান, কিছুদিন ধরেই শিশুটির খোঁজ মিলছিল না। বারবার জিজ্ঞেস করলে পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছিলেন শিশুটি তাঁর দিদিমার কাছে আছে।
তবে পরে জানা যায় যে টাকার জন্য নিজের ৮ মাসের সন্তানকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন সাথী। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। সাথীর স্বামীকে মারধর করেন স্থানীয়রা। এরপরই এলাকা ছেড়ে পালায় সে।
স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়ে এলাকায় আসে পুলিশ। সাথীকে গ্রেফতার করেন তারা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, শিশু বিক্রির কথা স্বীকার করে নেন সাথী দেবী। পুলিশের কাছে তিনি জানান, অভাবের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত পুরো টাকা পাননি বলে পুলিশকে জানান সাথীদেবী।
অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবী তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। শিশুকে স্থানীয় এক মহিলার কাছে বিক্রি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন সাথীদেবী। তবে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রির কথা হলেও এখনও তিনি ওই মহিলার থেকে ৭০ হাজার টাকা পান বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির আবেদন জানিয়েছে এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবী, অবিলম্বে পলাতক সাথীর স্বামীকে গ্রেফতার করতে হবে।





