কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র একটি সরকারি চাকরির অপেক্ষায় বসে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। একদিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, অন্যদিকে ক্রমাগত হতাশার প্রাচীর—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা খুঁজছেন ন্যায্য অধিকার। প্রার্থীদের অনেকেই ইতিমধ্যেই বিয়ে করেছেন, সংসার শুরু করেছেন, কেউ কেউ আবার পরিবার চালাচ্ছেন কোচিং পড়িয়ে কিংবা পার্টটাইম কাজ করে। অথচ যতবার আশার আলো দেখা দিয়েছে, ততবারই যেন নতুন করে অন্ধকার ডেকে এনেছে প্রশাসনিক জটিলতা।
এতদিন ধরে একটার পর একটা মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। প্রতি শুনানিতে আশার বীজ বোনা হয়েছে, কিন্তু ফলন মেলেনি। সুপার নিউমেরারি নামে যে বিশেষ পদ তৈরি হয়েছিল, তা যেন হয়ে উঠেছে বিভ্রান্তির নতুন কারণ। এই মুহূর্তে চাকরি শুধু আর কেরিয়ার নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রশ্ন। যাঁরা দিনের পর দিন পড়াশোনা করে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁদের মানসিক অবস্থা এখন একেবারে ভেঙে পড়ার মতো।
শেষমেশ সেই প্রতীক্ষার জট আরও জটিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপার নিউমেরারি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল—সিঙ্গল বেঞ্চের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশই বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই পদে আপাতত কোনওরকম নিয়োগ করা যাবে না। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, আইনগত বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন থাকায় এখনই স্থগিতাদেশ তোলা সম্ভব নয়।
চাকরিপ্রার্থীদের তরফে আইনজীবী পার্থসারথী সেনগুপ্ত সওয়াল করেন, দু’বছর ধরে প্রার্থীরা অপেক্ষা করছেন। মন্ত্রিসভার অনুমতি নিয়েই সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও ডিভিশন বেঞ্চে সেই যুক্তি ধোপে টেকেনি। বিচারপতির কটাক্ষ, “যদি শেষে দেখা যায় যে এই পদ আদৌ বৈধ নয়, তাহলে নিয়োগ হলে ফের নতুন সমস্যা তৈরি হবে।”
আরও পড়ুনঃ Covid Alert: মুম্বইয়ে ১৪ বছরের কিশোর-সহ ২ জনের মৃত্যু! আবার ফিরছে করোনার আতঙ্ক!
বিচারপতি সৌমেন সেন স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি সুপার নিউমেরারি পোস্টই অবৈধ হয়, তাহলে এখন নিয়োগ করে লাভ কী?” অর্থাৎ নিয়োগের বিষয়টি আপাতত ঝুলে থাকছে। মামলাকারীদের মধ্যেও কেউ কেউ নাকি পাশ করেননি, সেই প্রশ্নও তোলেন আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এই পদ তৈরিকে নীতি-বিরুদ্ধ বলে আখ্যা দেন। আগামী ১৮ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে সিঙ্গল বেঞ্চে। তখনই নির্ধারিত হবে আদৌ এই পদে নিয়োগ সম্ভব কি না। যতদিন না তা হয়, ততদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে হাজার হাজার প্রার্থীদের, যাঁদের কপালে এখনও শুধুই অনিশ্চয়তা।





