একটা সময় ছিল, যখন ট্রেনের বাঁশির শব্দেই শুরু হতো দিনের ছন্দ। সেই ট্রেন যদি না আসে, তাহলে কী হতে পারে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন যাত্রীরা। কারও বাড়ি ফেরার তাড়া, কেউ অফিস যেতে মরিয়া, আবার কারও মেডিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট—সব কিছুর গতি যেন থমকে গেছে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা, খাবার জল না পাওয়া, ঘুমোনোর জায়গা নেই—এ যেন শহরের বুকে আরেকটা যুদ্ধক্ষেত্র। ঠিক এমনটাই চলছে হাওড়া স্টেশনে, আর তার কেন্দ্রে রয়েছে সাঁতরাগাছি স্টেশনের সিগন্যাল বিভ্রাট।
সময় মানা ট্রেনগুলো আজ যেন ভুলেই গেছে পথ। ট্রেনের আসার নির্দিষ্ট সময় থাকলেও দেখা নেই, ঘোষণাও অস্পষ্ট। কাউন্টারে দাঁড়ানো কর্মীরাও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। যাত্রীরা বলছেন, কেউ কেউ সোমবার রাত থেকেই প্ল্যাটফর্মে বসে আছেন, কিন্তু ট্রেন আসেনি। ততক্ষণে খালি হচ্ছে খাবার প্যাকেট, বোতলের জল ফুরোচ্ছে, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে মানুষের। ট্রেন চলাচলের গতি স্তব্ধ, আর সেই গতি স্তব্ধ হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সাঁতরাগাছি রেল ইয়ার্ডের প্রযুক্তিগত সমস্যা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাঁতরাগাছি রেল ইয়ার্ডে সিগন্যাল সিস্টেম কাজ করছে না। রেল সূত্রের খবর, মূলত ইয়ার্ড রিমডেলিং, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ লাইন কাটার কাজ চলছে এই রেল ইয়ার্ডে। এই কাজের জন্যই নন-ইন্টারলকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং তার জেরে সিগন্যাল সিস্টেম অচল হয়ে পড়েছে। ফলত হাওড়া স্টেশন থেকে একাধিক ট্রেন ছাড়তে পারেনি, আবার অনেক ট্রেন দেরিতে ছাড়ছে। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ, কারণ দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়েও এই পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে।
এই সমস্যার জেরে দুরপাল্লার একাধিক ট্রেনের সময় পরিবর্তন করতে হয়েছে। হাওড়া-মুম্বই গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস, হাওড়া-চেন্নাই মেল এবং হাওড়া-পুরী বন্দেভারত এক্সপ্রেসের সময় পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়াও হাওড়া-পুনে আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেস, হাওড়া-বেঙ্গালুরু দুরন্ত, হাওড়া-মুম্বই দুরন্ত এক্সপ্রেসও দেরিতে ছাড়ছে। অন্যদিকে বাতিল হয়ে গিয়েছে হাওড়া-বারবিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেস ও হাওড়া-দিঘা কান্ডারি এক্সপ্রেস। ফলে যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ SSC Recruitment: হাইকোর্টে ফের ধাক্কা চাকরিপ্রার্থীদের, সুপার নিউমেরারি পদে নিয়োগ আপাতত বন্ধ
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ইয়ার্ড রিমডেলিং এবং লাইন কাটার কাজ শেষ হলে ট্রেনের গতি এবং সময়ানুবর্তিতার মান আরও উন্নত হবে। তবে তার আগে যতদিন এই নন-ইন্টারলকিং সিস্টেম চলছে, ততদিন দুর্ভোগ চলবে বলেই আশঙ্কা। রবিবার কাজ চলার পর থেকেই সোমবার সকাল থেকে সিগন্যাল সিস্টেম কাজ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। যাত্রীরা বলছেন, উন্নয়ন হোক, কিন্তু তার পরিকল্পনা এমনভাবে হোক যাতে সাধারণ মানুষের জীবন থমকে না যায়। তাদের দাবি, রেলের উচিত ছিল বিকল্প ব্যবস্থা রাখা এবং যাত্রীদের আগেই সতর্ক করা। এখন শুধুই অপেক্ষা—এই অচলাবস্থা কবে কাটবে তার।





