সুন্দরবনের মানুষজনের মধ্যে একটা কথা খুবই প্রচলিত, “ঝড়ের আগে কান্তি আসে…’। এবারেও এই নিয়মে ছেদ পড়ল না। ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র আগেই কিন্তু সুন্দরবনের মানুষের কাছে পৌঁছে গেলেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। রাতে ঝড় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও দুপুরেই সুন্দরবনে দেখা মিলল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বামনেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের।
এর আগে আয়লা থেকে শুরু করে আমফান, ইয়াস, রেমালের মতো নানান ঘূর্ণিঝড় সামলেছে সুন্দরবন। আর প্রতিবারই সেখানকার মানুষদের কাছে একই ভাবে ঝড়ের আগেই হাজির হয়েছেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। এবারও ঘূর্ণিঝড়ের আগেই সুন্দরবনের উপকূল এলাকা রায়দিঘিতে পৌঁছে গেলেন ‘কান্তিবুড়ো’।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে ওড়িশার ভিতরকণিকা-ধামরার মাঝে আছড়ে পড়বে ‘দানা’। ল্যান্ডফলের সময় এই ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। বাংলায় ল্যান্ডফল না হলেও পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব থাকবে বেশি। সেখানে ইতিমধ্যেই নদী-সমুদ্র রূপ বদলাতে শুরু করে দিয়েছে বলে খবর।
বাম জমানা এখন আর নেই। কিন্তু তাও বারবার সুন্দরবনের মানুষ বামনেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়কে পাশে পেয়েছেন। কখনও নিজের তাগিদেই হোক বা কারোর বিপন্নতার ডাক পেয়ে সবসময় সুন্দরবনে ছুটে গিয়েছেন ‘কান্তিবুড়ো’। বর্তমানে কোনও পদেই নেই তিনি। বয়সের কারণে শরীরও ভেঙেছে। কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা সবার আগে ভাবেন তিনি।
এদিনও রায়দিঘির কুমোরপাড়ায় ঝড় মোকাবিলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। নদী বাঁধ এলাকায় সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন। শুনলেন প্রান্তিক মানুষের কষ্টের কথা। ঝড়ের সতর্কতা হিসেবে পরামর্শও দিলেন তিনি।
এদিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসন যোগাযোগ করেনি। করবেও না। তবে প্রতিবার আমি থাকি। যদি রাতে ঝড় আসে। আর পূবের হাওয়া হয় তাহলে নদী বাঁধ টপকে জল ঢুকবে। ভাঙবে”।
আরও পড়ুনঃ কমছে দূরত্ব, আরও ৫০ কিলোমিটার এগিয়ে এল ‘দানা’! শুরু হয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব, কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতায় তুমুল ঝড়
তিনি অভিযোগ করেও বলেন, “বাঁধের কাজ সেচ দফতর তো করে। ১০০ দিনের কাজে নদী বাঁধে মাটি দেওয়া হয়। গত চার পাঁচ বছর ধরে সেই মাটি দেওয়া হয়নি”।





