বিতর্কের মুখে পড়লেন সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। সিপিএম নেতার একটি ছবি বগেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে একটি গ্লাসে পানীয় ঢালছেন তিনি। টেবিলে রাখা ম’দের বোতল ও কোল্ডড্রিঙ্কস। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তুমুল ভাইরাল। যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭।

এই ছবি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায়। একাংশের দাবী, বাম নেতার এমন আচরণ কী মেনে নেওয়া সম্ভব। আবার একাংশের মতে, কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত কোনও ছবি এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো উচিত নয়। এর সঙ্গে রাজনীতির তো কোনও যোগ নেই।
ফেসবুকে এই ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “কম রেড, জল বেশি”। এই ছবি প্রসঙ্গে তন্ময় ভট্টাচার্য এক সংবাদমাধ্যমে জেনেন, “ছবিটা আমি দেখেছি। অনিন্দ্য চৌধুরী বলে একটি ফেরেববাজ ছেলে এই ছবিটা পোস্ট করেছে। ও নিমতায় থাকে। চাকরি দেবে বলে লোকের থেকে টাকা তুলত। আমি যখন বিধায়ক তখন তাকে ধরেছিলাম। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছিলাম। তখন তৃণমূলের ওখানকার এক নম্বর মস্তান, এখন যে চেয়ারম্যান তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করে। তারপর তৃণমূলেরই সহযোগিতায় নির্ভীক উত্তর বলে একটি নিউজ পোর্টাল চালু করে। সেখানে সে এইসব পোস্ট করে। এই হচ্ছে ছেলেটির পরিচয়। ঘটনাচক্রে ছেলেটির মামবাড়ি আমার পাড়ায়। ওর মামার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওর মামবাড়ির সকলেই বলে ও ফেরেববাজ। তৃণমূলের জমানার একটি ছেলে সিপিএমের নেতাদের নামে কুৎসা করবেই। এতে আর কী করা যাবে”।
কোনও ব্যক্তিগত ছবি কেন এভাবে শেয়ার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনদের একাংশ। তবে যিনি এই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন, সেই ব্যক্তির কথায়, “টিভি চ্যানেলে বসে অন্য দলের নেতাকে বলেন, ধুর রাত আটটার পর আপনার কথা শুনি না। তখন এই স্যাম্পেল ছবিগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন”।
বামবিরোধী নেটিজেনদের নানান কটাক্ষ সম্পর্কে তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আমার সম্পর্কে এরকম অনেক কুৎসা অপপ্রচার ওই অনিন্দ্য চৌধুরীর পোর্টালে লেখা হয়েছিল। এ সবে কান দেওয়ার সময় আছে নাকি! আমি এগুলো ইগনোর করি”।
বলে রাখি, উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর পূর্ণাঙ্গ সদস্যের পদ থেকে সরিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যকে আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়। কিন্তু দলের সর্বক্ষণের কর্মী না হওয়া সত্ত্বেও তিনি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীতে কীভাবে থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে দলের মধ্যেই। এই কারণে পরবর্তীতে তাঁকে পার্টির সর্বক্ষণের কর্মীর নীতি মেনে জেলা কমিটির বৈঠকে তন্ময় ভট্টাচার্যকে পূর্ণাঙ্গ সদস্য থেকে সরিয়ে আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়।






