কিছুদিন আগেই ফের শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প। আর এই কর্মসূচির জন্য বেশ কয়েকটি স্কুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর এর জেরে ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের পঠনপাঠন। চলতি মাসেই রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার টেস্ট। আর এ মাসের শেষের দিকে শুরু হবে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণীর তৃতীয় সামগ্রিক মূল্যায়ন। বেশ কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সরকারি কর্মসূচির দিনক্ষণ দেখে তাদের পরীক্ষার সূচি বদলাতে হচ্ছে। এমনকি, স্কুলের পঠনপাঠনেও ছুটি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বেহালা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস বেরা জানিয়েছেন, বুধবার দুয়ারে সরকার প্রকল্প থাকায় তাঁদের স্কুল ছুটি দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “শিক্ষকেরা সকলে স্কুলে এসেছেন, কিন্তু ক্লাস হয়নি। আমাদের স্কুলে দুয়ারে সরকারের পরবর্তী শিবির আবার হবে মাধ্যমিকের টেস্ট চলাকালীন। তাই পরীক্ষার রুটিনও এমন ভাবে ফেলতে হয়েছে যাতে শিবিরের দিনে পরীক্ষা না থাকে”।
৭ নভেম্বরের পরেমাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে, নিচু ক্লাসের তৃতীয় সামগ্রিক মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে ২৫শে নভেম্বরের পর থেকে। যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার বলেন, ‘আমাদের স্কুলে যে দিন দুয়ারে সরকার প্রকল্পের শিবির হবে, সে দিন দশম শ্রেণির টেস্ট রয়েছে। তবে স্কুলের দু’টি দরজা রয়েছে। তাই দ্বিতীয় দরজা দিয়ে ঢুকে মাঠের মধ্যে শিবিরের আয়োজন করতে বলা হয়েছে”।
কলকাতার কয়েকটি স্কুলে সরকারি এই কর্মসূচি চালানো হলেও, শহরতলির অনেক স্কুলেই চলছে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প। আর এর জেরে স্কুলের পঠনপাঠন যে ব্যাহত হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, ‘রাজ্যের কিছু স্কুল থেকে খবর পাচ্ছি, দুয়ারে সরকার প্রকল্পের জন্য পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার রুটিনও সেই অনুযায়ী ফেলতে হচ্ছে। একই সঙ্গে টেস্ট ও দুয়ারে সরকার কর্মসূচি থাকায় জেলার বিভিন্ন স্কুলের পক্ষে রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফর্ম পূরণের দিনও আছে সামনে। বিষয়টির যাতে সুরাহা হয়, সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা দফতরে চিঠি দিয়েছি”।
শিক্ষকেরা অভিযোগ করছেন যে প্রকল্পের জন্য যে স্কুলে মাইক বাজছে বা অত্যধিক ভিড় হয়ত হচ্ছে না। কিন্তু বাইরের লোক ঢোকায় পড়ুয়াদের, বিশেষত ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্কুল ছুটি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, শিক্ষা দফতরের এক কর্তা এই বিষয়ে বলেন, “এখন শুধু স্কুল নয়, বিভিন্ন ক্লাব ও কমিউনিটি সেন্টারও ওই কর্মসূচির জন্য নেওয়া হচ্ছে। স্কুলে প্রকল্প করা হলেও মাইক বাজানো হচ্ছে না। তাই পঠনপাঠন বা পরীক্ষা নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়”।





