লকডাউনের জেরে আটকানো হলো দিল্লি থেকে ফিরতি ক্যান্সারে মৃত এক ব্যক্তির অ্যাম্বুল্যান্স

করোনার বিপর্যয়ে আটকাতে বন্ধ করা হয়েছে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত। যার জেরে আসানসোলের কাছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে আটকে গেল দিল্লির এইমস থেকে ফিরতি অ্যাম্বুল্যান্স। এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিলা। ঘটনাটি জানাজানি হতেই খবর পৌঁছে যায় নবান্নেও। শেষপর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্সটি ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুটা দুর যাওয়ার পর আবার অ্যাম্বুল্যান্সটি বিকল হয়ে যায়! এরপর আরও ৩০০কিমি পথ বাকি!

শুক্রবারই ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীকে হারিয়েছেন এক মহিলা। দিল্লি থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে স্বামীর দেহ নিয়ে ফেরার পথে লকডাউনে গেরোয় পড়লেন মহিলা। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার বাসিন্দা বছর ৫৫-এর মানস বয়াল। দীর্ঘদিন ধরেই ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। গত ১৭ই মার্চ তাঁর চিকিৎসা করাতে স্বামীকে নিয়ে দিল্লির রওনা হন তাঁর স্ত্রী। সেখানে মাসখানেক ধরে তাঁর চিকিৎসা চলে। কিন্তু ততদিন পরিস্থিতি প্রায় হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। শেষের দিকে রোগীকে নিজের বাড়ি নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন সেখানকার চিকিৎসকরা। শুক্রবার ভোরে মারা যান মানস। এরপরই দিল্লি থেকে হলদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন মৃতের স্ত্রী।

সমস্ত দরকারি কাগজপত্র তাঁর সাথেই ছিল এমনকি দিল্লিতে চিকিৎসারত অবস্থায় স্বামীর করোনা টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্টটিও সঙ্গে রেখেছিলেন তিনি। ফেরার পথে কোথাও কোনও বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। ঝামেলা বাঁধল ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় ঢোকার মুখে। আসানসোলের কাছে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে অ্যাম্বুল্যান্সটিকে আটকায় রাজ্য পুলিশ।কিন্তু সব কাগজ থাকা সত্ত্বেও কেন আটকানো হলো?

পুলিশের তরফে জানানো হয়, লকডাউনের সময়ে কোনও জেলায় প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ সুপার কিংবা উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের অনুমতি থাকা প্রয়োজন। তা না হলে আটক করা হবে। এরপর মানসবাবুর স্ত্রী পুলিশকর্মীদের হলদিয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে বললে, তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এভাবেই কেটে যায় প্রায় ৬ ঘন্টা।এরপর অ্যাম্বুল্যান্সটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এদিকে ততক্ষণে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের নজরে চলে এসেছে। এছাড়াও লকডাউনের মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পড়েছে, তা সে খবর পৌঁছে যায় নবান্নে। এরপর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফে দ্রুত সমস্ত কাজ মিটিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটল না। ২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে খানিকটা এগনোর পরই বিকল হয়ে যায় গাড়ি।লকডাউনের জেরে কোনো মেকানিকও পাওয়া যায়নি। হলদিয়ার এখনও ৩০০ কিমি দূরে। কীভাবে পৌঁছবেন তিনি, ঘোর সমস্যায় পড়েছেন সদ্য স্বামীহারা মহিলা।

আরও অন্যান্য খবর