নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে আবারও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। একসময় মৃত ভোটার বা ফর্ম ফেরানো না হওয়া বুথের সংখ্যা দিকচিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হতো, কিন্তু সম্প্রতি সেই সংখ্যা হঠাৎ মাত্র দু’টি পর্যন্ত নেমে এসেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, মৃত ভোটারের নাম নেই এবং একটাও ফর্ম ফেরেনি এমন বুথের সংখ্যা ছিল ২২০৮। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা ক্রমশ কমে যথাক্রমে ৪৮০, ২৯ এবং ৭-এ দাঁড়িয়েছিল। এরপর আট দিনের ব্যবধানে অবিশ্বাস্যভাবে হ্রাস পেয়ে এখন এই সংখ্যা মাত্র দুটি—একটি হাওড়া এবং একটি পশ্চিম মেদিনীপুরে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ভোটার ‘শূন্য’ বুথের সংখ্যা কমার পেছনে কোনও গাফিলতির কারণ নেই। রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসারদের (DEO) থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল এবং বারবার রি-চেক করা হচ্ছে। এছাড়া, শুধু মৃত ভোটার নয়, অনেক বুথে একজনও ভোটারের স্থানান্তরের তথ্য নেই, আবার কোথাও ডুপ্লিকেট বা অ্যাবসেন্ট ভোটারের সংখ্যা শূন্য দেখা যাচ্ছে। এসব পুনঃনিরীক্ষার জন্য জেলা প্রশাসনকে ফের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পূর্বে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এনুমারেশন ফর্ম আপলোডের সময়সীমা ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রস্তুত হবে এবং ১৬ ডিসেম্বর সেই খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটাররা তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ বা আপত্তি জানাতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ Vande Mataram Controversy: ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছরে তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ! বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্রের বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি!
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির জন্য কমিশনের অনুমতি নেওয়া হবে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। এই প্রক্রিয়ায় দেরি বা হঠাৎ পরিবর্তন হলেও কমিশন নিশ্চিত করেছে, সব কিছু পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে যাতে কোনও ভুল থেকে যায় না এবং ভোটারদের তথ্য সর্বাধিক সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকে।





