বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নামটি যেমন এক ঐতিহ্যের প্রতীক, তেমনই সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ঘিরে নতুন বিতর্কও গরম করছে রাজনৈতিক মহল। ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই তাঁর প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। বাংলার সরকার থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত—কাকে তিনি লক্ষ্য করে কী অভিযোগ করলেন, তা নিয়ে ওঠেছে নানা প্রশ্ন।
এই আবহেই সোমবার সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সময়ে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজল চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন—বাংলার তৃণমূল সরকার নাকি বঙ্কিমচন্দ্রের কাজকে প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছে না। তাঁর দাবি, আগের কংগ্রেস সরকার যেমন অবহেলা করেছে, বাংলার সরকারও নাকি সেই একই পথেই হাঁটছে। তবে তিনি স্পষ্ট বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সজল চট্টোপাধ্যায় সাক্ষাৎকারে জানান, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ২০১৮ সালে অমিত শাহ কলকাতায় তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন, যখন কোনও নির্বাচনও ছিল না। তাঁর বক্তব্য—“এই আচরণ থেকে বোঝা যায় কেন্দ্র আমাদের গুরুত্ব দেয়, কিন্তু রাজ্য সরকার কী ভাবে দেখে তা আমি বুঝতে পারি না।”
এখানেই থামেননি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দাবি—বঙ্কিম ভবন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক। এছাড়াও সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ শুধু সুরে বাজানো হয়, কিন্তু গাওয়া হয় না—এই নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। তাঁর মতে, জাতীয় সঙ্গীতের পর ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ রূপে গাওয়া উচিত। এই সমস্ত দাবি সামনে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক আলোড়ন শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee : ‘পরিকল্পনাহীন নীতি মানুষকে বিপদে ফেলেছে’—ইন্ডিগো কেলেঙ্কারিতে কেন্দ্রকে তুলোধনা মমতার!
অন্যদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেন, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস গানটির কয়েকটি ছন্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত দেশভাগের মানসিকতা তৈরি করেছিল। যদিও কংগ্রেস পাল্টা ভাবে জানিয়েছে—এই পরিবর্তন করা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখেই। ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি যখন দেশজুড়ে উদ্যাপিত হচ্ছে, ঠিক সেই সময় এই কেন্দ্র–রাজ্য দ্বন্দ্ব বিতর্ককে আরও উস্কে দিল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।





