শিয়রে লোকসভা ভোট। এই মুহূর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরাই ব্যস্ত ভোটের প্রচারে। ঘাটাল থেকে এবারেও দীপক অধিকারী ওরফে দেবকেই (Dev) প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে বেশ টানাপড়েনের সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত দেব রয়েই গিয়েছেন রাজনীতির ময়দানে। তবে এবার ঘাটালে প্রচারে গিয়ে তাঁর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ জানালেন তৃণমূল প্রার্থী।
লোকসভা ভোটের আগেই দেবের (Dev) রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দোলাচলে ছিল তৃণমূল। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নেন তিনি। কেন তিনি রাজনীতি ছেড়ে অভিনয় জগতে পুরোপুরিভাবে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন, এবার পাঁশকুড়ায় ভোটের প্রচারে গিয় তা খোলসা করলেন দেব নিজেই।
কী জানালেন দেব (Dev)?
রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেব (Dev) জানান, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমি বলেছিলাম করে দেব। কিন্তু করে দিতে পারিনি। তাই রাজনীতি জগত ছেড়ে দিয়ে নিজের অভিনয় জগতে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম”।
দেব (Dev) আরও বলেন, “দিদি আমাকে বলে যে রাজনীতিতে তোমার মতন ছেলের প্রয়োজন। আমি দিদিকে বলেছিলাম যদি ঘাটার মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকার করে দেয় তবেই আমি রাজনীতিতে ফিরব। দিদি কথা রেখেছে আরামবাগের সবার থেকে ঘোষণা করেছে”। তিনি এও জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাগজ জমা পড়েছে ইতিমধ্যেই। কাজ শুরু দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেবের (Dev) রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয় যখন তিনি ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি, ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ও বীর সিংহ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপরই লোকসভা ভোটের আগে সংসদে শেষ অধিবেশনের দিন দেব (Dev) জানিয়েছিলেন, সেদিনই তাঁর সংসদে শেষ দিন ছিল। এর ফলে সকলে একপ্রকার ভেবেই নিয়েছিলেন, এবার রাজনীতির ময়দানকে বিদায় জানাচ্ছেন দেব।
তবে পরবর্তীতে ক্যামাক স্ট্রীটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন দেব (Dev)। এরপর আরামবাগের সভায় তাঁকে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে। সেখানেই তিনি জানান, তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না। দেব এও বলেছিলেন, “আমি রাজনীতিকে ছাড়লেও, রাজনীতি আমায় ছাড়ছে না”।





