“জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে চুঁচুড়ার রেশন দোকানে শুরু হল জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ বিতরণ। চুঁচুড়া স্টেশন রোডের একটি রেশন দোকান থেকে উপভোক্তাদের হাতে প্রসাদ তুলে দেন স্থানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার। দীঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে আনা খোয়া ক্ষীর নির্দিষ্ট মিষ্টির দোকানে মিশিয়ে তৈরি করা হয় প্যারা গজা। সেই প্রসাদই প্যাকেটবন্দি হয়ে পৌঁছায় রেশন দোকানে, সঙ্গে থাকে জগন্নাথদেবের ছবি।
বিধায়ক বলেন, “আজ থেকে শুরু হল এই মহাপ্রসাদ বিতরণ। এরপর বিভিন্ন জায়গায় এই কর্মসূচি চলবে। যারা নিজেদের হিন্দু বলে দাবি করে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে হিন্দুত্ব মানে না—তাদের মুখোশ খুলে যাবে। যারা প্রকৃত সনাতনী, তারা এই প্রসাদ গ্রহণ করেই ধন্য হচ্ছেন।”
এই উদ্যোগকে ভোটকেন্দ্রিক প্রচেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, “যাদের শাসনে হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়, তাদের মুখে হিন্দুত্বের কথা মানায় না। ভোটের স্বার্থে প্রসাদ বিলি করছে। এতে লাভ কিছু হবে না। প্রকৃত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তৃণমূলের ফাঁদে পা দেবেন না। আগামী নির্বাচনে ফল বুঝে যাবে তৃণমূল।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, কদিন আগেই হুগলি জেলার রেশন ডিলারদের নিয়ে মহকুমা শাসক একটি বৈঠক করেন, যেখানে সিদ্ধান্ত হয় দীঘার জগন্নাথধামের প্রসাদ রেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হবে। সেই সময় বিজেপি বিধায়করা জানিয়ে দেন, তারা এই প্রসাদ গ্রহণ করবেন না।
এদিকে, এবার প্রথমবার দীঘায় জগন্নাথধামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রথযাত্রা। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন দীঘায়। তিনি স্বর্ণঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিস্কার করার পরই রথ টানার শুভ সূচনা হবে। পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার এক কিমি দীর্ঘ হবে রথের রশি, যাতে দূর থেকে দাঁড়িয়েও ভক্তরা রশি ছুঁতে পারেন। নিরাপত্তার জন্য মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণ দমদমে পরপর কামড়ের ঘটনায় ‘কালু-পাপা’দের সরানোর পরিকল্পনা
রথ উপলক্ষে দীঘার সব হোটেল ইতিমধ্যেই বুকড। হোটেলের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পর্যটন দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন, হোটেল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে।
দীঘার রথযাত্রা, প্রসাদ বিতরণ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে এখন জগন্নাথ ভাবনায় মগ্ন ভক্তকুল ও সাধারণ মানুষ।





