একদিকে ত্রাণের ত্রিপল চুরির ঘটনা আর অন্যদিকে সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরার গ্রেফতারি, এই দুই ঘটনার জেরে রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বেশ নাজেহাল হয়েছেন। এবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে তীর বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
গতকাল, সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি বাক্যবাণে বিদ্ধ করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “নন্দীগ্রামের হার হজম করতে না পেরে, শুভেন্দুকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে। যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এসেছেন, তাঁদের বদনাম করা হচ্ছে”।
গত শনিবার, শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর ভাই তথা কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ত্রাণের ত্রিপল চুরির অভিযোগ উঠে। কাঁথি পুরসভার প্রশাস্ক মণ্ডলীর অভিযোগ, বর্তমান পুরপ্রশাসককে না জানিয়েই ত্রাণের ত্রিপল চুরি করেছেন শুভেন্দু ও সৌমেন্দু। আবার এদিন রাতেই কলকাতার মানিকতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরা।
শুধু এই দুই ঘটনাই নয়, বাঁধ কেলেঙ্কারিতেও নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। যদিও তাঁর পাল্টা দাবী, “তদন্ত করে দেখুক না। তাহলেই বোঝা যাবে। আমি কয়েকমাসের জন্য সেচমন্ত্রী হয়েছিলাম। তারপর লকডাউন জারি হয়। কোনও ফাইলে আমার সই নেই। কোনও মন্ত্রীকে কাজ করতে দেন না মুখ্যমন্ত্রী”।
অন্যদিকে, জানা গিয়েছে, এই রাখাল বেরা শুভেন্দু অধিকারীর পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন। দিঘায় তাঁর নিজের একটি হোটেল থাকার পাশাপাশি তিনি কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টরও। এমনকি, কলকাতাতেও তাঁর একটি ব্যবসা রয়েছে। এমন এক বিত্তশালী মানুষের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি আসলে কী?
জানা যায়, গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি অশোকনগরের বাসিন্দা সুজিত দে মানিকতলা থানায় রাখাল বেরা-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, রাখাল বেরা তাঁকে সেচ দফতরে গ্রুপ ডি-এর চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও চাকরি দেন নি তিনি। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে সেচ দফতরের প্রাক্তন কর্মী চঞ্চল নন্দীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এই চঞ্চলই সুজিতকে নিয়ে যান রাখালের কাছে। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকেই চঞ্চল উধাও। পুলিশ তাঁর খোঁজ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, রাখালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য দিয়েই শুভেন্দু অধিকারীর পর্যন্ত পৌঁছনো যাবে বলে মনে করছেন তারা।





