আমরা তৃণমূল সরকারকে ফেলবো না, লিজও নেব না এই সরকারকে আরও এক বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চালাতে হবে, বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত বাংলা। একদিকে করোনা, অন্যদিকে আমফান। বাংলার মানুষ রীতিমত বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “যেদিন ঝড় এসেছিল, তার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। কেন্দ্র সবসময় সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু তাই বলে আমরা কোনও সরকার লিজ নেব না।”
তারপরই তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার কোনো লকডাউন মানছে না। গতকালই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন, তাঁরা ত্রাণ দিতে বেরলেই তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আজ থেকে রাস্তায় নামবেন তাঁরা। কে কী করতে পারেন দেখে নেবেন।
যদিও এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতির গলায় উল্টো সুর। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বারণ করেছেন তাই তাঁরা লকডাউন ভাঙছেন না। তাঁর সাফ দাবি, করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ব্যর্থ আমফান মোকাবিলাতেও। আর সরকারের এই অসফলতা ২-৩ মাসেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
রাজ্যে কি তাহলে ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছে বিজেপি? সেই সম্ভাবনার কথা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার ভাঙা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। তবে কোনও সরকার যদি ভেঙে পড়ে, তার দায়ও আমাদের নয়।”
রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা নিয়েও তাঁর সাফ কথা, আগামী ১ বছর ধরে সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তারজন্য সব বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। পরিযায়ী শ্রমিকরা আসবেই। তাঁর ফলে সংক্রমণ বাড়তেই পারে। এক্ষেত্রে কলকাতা ও যে জেলাগুলিতে নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়ছে, সেখানে কড়াকড়ির দরকার আছে।
এমনিতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো নিয়ে রাজ্য-রেল তরজা বেঁধেছে। রাজ্যের আপত্তি না শুনেই রেল ট্রেন পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিন সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ সাফ বলেন, “লোক নিয়ে আসা বা পাঠানোর দায়িত্ব রাজ্যের।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ত্রাণ ঘোষণা করেছে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রেরও কোনও আয় নেই। তাই সমস্যা কারও একার নয়, সবার।






