লকডাউনের জেরে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা, শুধু এপ্রিলেই কাজ গেছে ১২ কোটি মানুষের

গত মার্চ থেকেই দেশজুড়ে করোনা রুখতে শুরু হয়েছে লকডাউন। আর এই দেশব্যাপী চলতি লকডাউনের জেরে শুধু এপ্রিলেই গোটা ভারতে কমপক্ষে ১২ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। বেসরকারি থিংক ট্যাংক সংস্থা ‘সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি’-র পরিসংখ্যান সেই কথাই বলছে। দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি যারা কাজ হারিয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ এবং ছোট ছোট সংস্থায় চাকরি করা ব্যক্তিরা। যেমন হকার্স, রাস্তার ছোট ছোট দোকানদার, হস্তশিল্প ও নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীরা এমনকি রিক্সাচলক থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন মাধ্যমের কর্মীরা কাজ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে এই থিংক ট্যাংক সংস্থার তরফে।

এই পরিসংখ্যান দেখে চিন্তিত হয়ে IPE Global-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশ্বজিৎ সিং বলছেন, “চলতি লকডাউনের কারণেই ভারত সরকারের দারিদ্র্য দূরীকরণের সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গেল। গত কয়েক বছরে যেটুকু কাজ হয়েছিলো তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার মতো পরিস্হিতি নেই।” আপাতত এই দুরবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার যে কোনোও রাস্তাই অবশিষ্ট নেই সেই কথা স্পষ্টভাবে জানান তিনি। পাশাপাশিই তিনি এও আশঙ্কা করে বলছেন, ‘দেশে এই বেকারত্বের জেরে মানুষের কাছে খাবার থাকবে না। তাই ক্ষুধার তাড়নাতেই এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ মারা যাবে। করোনার থেকেও বেশি।’

ইউনাইটেড নেশনস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে মিস্টার সিং বলেন, নিম্ন-মধ্য রোজগার করা দেশগুলির জন্য বিশ্ব ব্যাংক নির্ধারিত দারিদ্র্য সীমা দৈনিক ভিত্তিতে ৩.২ ডলার নিচে নেমে আসতে পারে। আর তা হলে ১০৪ মিলিয়ন ভারতীয় সেই তালিকায় থাকবে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অশ্বজিৎ সিং।

দারিদ্র্য সীমায় বসবাসকারী বর্তমান হিসেব হচ্ছে ৬০ শতাংশ বা ৮১২ মিলিয়ন, সেটাই বেড়ে হতে পারে ৬৮ শতাংশ বা ৯২০ মিলিয়ন। এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতি গত ২০ বছরেও চাক্ষুষ করেনি ভারত।

বিশ্বব্যাংক এবং CMIE এপ্রিলের শেষ দিক থেকে মে মাসের শুরু অবধি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তারপর আরও ক্ষতিকারক রূপ নেয়। কাজ হারিয়ে লাখ-লাখ পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফেরার জন্য আকুল হয়ে পড়েন। এরপর সরকারের সাহায্য না পেয়ে কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ বা বাসে, কেউ সাইকেল নিয়ে, আবার কেউ বা সাইকেল চুরি করে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যের দিকে যাত্রা শুরু করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে চলা এই সংঘর্ষে কত মানুষ অকালে প্রাণও দিয়েছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment