‘অনেক দালাল ঢুকে গিয়েছে দলে, সবাইকে বাদ দেব’, সুবিধাভোগীদের দল থেকে ছাঁটাইয়ের হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের

গতকাল, রবিবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই ফেসবুকে বিস্ফোরক বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ফেসবুকে বেশ হুঁশিয়ারি শানিয়েই দিলীপ ঘোষ একটি পোস্ট করেন।

দিলীপ ঘোষের সেই পোস্টে লেখা রয়েছে, “অনেক দালাল নির্বাচনের আগে আমাদের দলে ঢুকে গিয়েছিলেন। কিছুজন গিয়েছেন, কিছু এখন রয়েছেন। তাঁরা উৎপাত করছেন। সবাইকে বাদ দেব। এরা চায় না বিজেপি শক্তিশালী হোক”।

দল ভাঙিয়ে বিজেপিতে যোগদান করানো নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি প্রথম থেকেই বলেছেন যে ক্ষমতার জন্য বিজেপিতে এলে টিকতে পারবে না। আর এদিনও তাঁর পোস্টে সেরকমই বার্তা উঠে এল।

দিলীপ ঘোষের মতে, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছে এমন অনেক নেতাই রয়েছেন যাদের কোনও দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায় না, তারা সংগঠনকে মজবুত করার পক্ষে অন্তরায়।  দলে থেকে দলের ক্ষতি করছেন তারা। তাদেরই দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি যে এই সমস্ত নেতাদের এবার বিদায় জানানোর সময় এসেছে।

একুশের ভোটের আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার গতকাল, রবিবার ফের নিজের পুরনো দলেই ফিরে গেলেন তিনি। একুশের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁর দলবদলের জল্পনা চলছিলই। অবশেষে গতকাল তা সত্যি হল।

রাজীবের এই ‘ঘরওয়াপসি’ নিয়ে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা তো প্রথম থেকেই জানি। যেদিন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গড়তে পারেনি জানি এরা চলে যাবে। কিন্তু যাচ্ছিল না কেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সেই হিসাব আমরা কষছিলাম”।

এদিন দমদমে বিজেপির এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাহুল সিনহা। সেখানে তিনি বলেন, “গিয়েছে পাপ বিদায় হয়েছে, আপদ বিদায় হয়েছে। তৃণমূলকে ধন্যবাদ। ভারতীয় জনতা পার্টির ময়লা সাফাইয়ের কাজটা তৃণমূল কংগ্রেস করে দিল। যারা কেবল মাত্র ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করে, কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করে, মানুষ সেবার জন্য বা দেশ সেবার জন্য রাজনীতি করে না তারা কোনও ভাবেই বিজেপিতে টিকতে পারবে না। সে কারণে এই জাতীয় ক্ষমতালোভী নেতাদের মানুষ চিনে রাখছে। ঠিক সময়মতো মানুষ তাদের জবাব দেবে”।

এদিকে রাজীবের এই প্রত্যাবর্তনে মোটেই খুশি নন তৃণমূল নেতা তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ আক্ষেপের সুরেই তিনি বলেন, “রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যোগদান করিয়েছেন। আমাকে তা মেনে নিতে হবে। কিন্তু মমতাদি নির্বাচনের মিটিংয়ের সময় ডোমজুড়ে বলেছিলেন যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন-চারটে বাড়ি আছে গড়িয়াহাটে। তাঁর টাকার লেনদেন চলছিল দুবাইয়ে। তা সত্ত্বেও কেন তাঁকে নেওয়া হল তা শীর্ষ নেতৃত্ব বলতে পারবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে দলের কোনও কর্মীর মনে আঘাত দিয়ে কোনও বিশ্বাসঘাতককে দলে ফেরত নেওয়া হবে না। আমিও এক জন দলের কর্মী। সাংসদ তো নিশ্চয়ই। তাই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতাটা মনে পড়ছে। ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতাটা মনে পড়ছে। তৃণমূলে থাকতে হলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবেন তা তো সবাইকে মেনে চলতে হবে। আমাকেও মেনে চলতে হবে। তবে আমি জানি না এরকম একটা টপ টু বটম দুর্নীতিগ্রস্ত একজন লোককে কেন দলে যোগদান করানো হল, আমি জানি না”।

RELATED Articles