‘নেমন্তন্ন করলে যায় না, আগ বাড়িয়ে দিল্লি যাচ্ছে, ঠেলায় পড়লে বিড়ালও গাছে ওঠে’, মোদীর সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা দিলীপের

আগামী মাসের শুরুতেই ফের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। জি-২০ সম্মেলন নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ৫ই ডিসেম্বর সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক (meeting) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে যোগ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানেই মোদীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করতে পারেন মমতা। সেই নিয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

সূত্রের খবর, দিল্লির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে রাজ্যের বকেয়া টাকা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন মমতা। সেই প্রসঙ্গেই মমতাকে তোপ দেগে দিলীপ বলেন, “যাকে নেমন্তন্ন করলে দিল্লি যায় না, সে হঠাৎ আগ বাড়িয়ে দিল্লি যেতে চাইছে কেন? আসলে ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে”।

শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, এদিন রাজ্যের নানান বিষয় নিয়েই তোপ দাগেন দিলীপ। শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছিলেন যে শুভেন্দু হয় ক্ষমা চাইবেন, নাহলে বীরবাহার জুতো পালিশ করাব। সেই প্রসঙ্গে এদিন দিলীপ বলেন, “এসব ডায়লগ দিয়ে কিস্যু হবে না। যদি মনে হয় কোর্টে যান। আদালত বিচার করবে। দ্রৌপদী মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চাইতে ১৫ দিন নেন। আপনারা যে ভাবে সাংবিধানিক পদের অবমাননা করেছেন, তার জন্য ক্ষমা কে চাইবে? উনি নিজে কোনওদিন ক্ষমা চেয়েছেন? দ্রৌপদী কাণ্ডে গোটা বিশ্বের সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন”।

শুধু তাই-ই নয়, দিলীপ ঘোষের গ্রেফতারির দাবীও তুলেছেন কুণাল। নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত প্রসন্নকুমার রায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে দিলীপ ঘোষের বাড়ির দলিল। সেই কারণে কুণাল দাবী তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যাতে দিলীপকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

কুণালের সেই মন্তব্যের পাল্টা দিয়েই মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, “কারা এসব বলছে? যারা পশ্চিমবাংলায় লুঠের রাজত্ব কায়েম করেছে? কারা দাবি করছে? যারা হরিশ মুখার্জি লেনকে হরিশ ব্যানার্জি লেন করে দিয়েছে। ৩৬ টা প্লট লুঠ হয়েছে ওখানে। এর চেয়ে হাস্যকর কি হতে পারে? আমি বলছি, তোমাদের দম থাকলে গ্রেফতার করে নাও। সিবিআই ইডি এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। আসল দলিল ব্যাঙ্কে আছে। প্রসন্ন ওই আবাসনের ইনচার্জ। আমি চিনতাম। আমার ইলেকট্রিক মিটারে নাম বদলের জন্য ওকে জেরক্স কপি দিয়েছিলাম। আমি লোন নিয়ে বাড়ি কিনেছি। তাতে ওদের খাওয়া ঘুম উড়ে গেছে। আর নিজেরা লুঠ করে একাকার করে দিচ্ছে”।

RELATED Articles