গতকাল, সোমবার এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি (SSC Scam Case) মামলায় ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) আলিপুর আদালতে (Alipur Court) তোলা হয়। এদিন আদালতে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের উপর মেজাজ হারান তিনি। এরপর আদালত থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “দলের সঙ্গে আছি, ১০০ বার আছি”। এবার তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। এই বিষয়ে কটাক্ষ করে পার্থকে তোপ দাগেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
আজ, মঙ্গলবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে পার্থর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে ফের তোপ দাগেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, “পার্থ বলছেন দলের সঙ্গেই আছি। কিন্তু দল তো পার্থর সঙ্গে নেই। কারণ, উনি টাকা পয়সার ভাগ দেননি। এখন বলে লাভ নেই। দল ওনাকে ছেঁটে ফেলেছে। অনুব্রত বা মানিকরা দিয়ে থুয়ে খেয়েছেন। তাই দল ওনাদের সঙ্গেও আছে। ওদের বোঝা বইছে”।
শুধু দিলীপই নন। পার্থর এহেন মন্তব্যে তোপ দেগেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। আজ বেঙ্গালুরুতে বাঙালি সমাজের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যান তিনি। এর আগে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এই প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “ওনার তো দলের সঙ্গেই থাকা উচিত। যার জন্য চুরি করেছেন, তার সঙ্গেই তো থাকবেন। দলের জন্যই তো চুরি করেছেন”।
বলে রাখি, গতকাল, সোমবার নিয়োগ দুর্নীতিতে জোড়া মামলায় হাজিরা ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিন আলিপুর আদালতে সিবিআইয়ের মামলার শুনানি হয়। এরপর সেখানে বসেই ইডির মামলার ভারচুয়ালি শুনানি হয়। কিন্তু দুই মামলাতেই জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে পার্থর। সিবিআই মামলায় আগামী ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজত ও ইডির মামলায় আগামী ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজত হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।
এদিন পার্থ আদালতে নিজেকে অসুস্থ বলে দাবী করে জামিনের আর্জি জানান। প্রায় কেঁদে ফেলেই তিনি বলেন, “আমাকে বাঁচতে দিন”। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও সুর চড়াতে শোনা যায় তাঁকে। পার্থ বলেন, “এজেন্সিগুলি ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে”। তাঁর কথায়, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই, তবুও তাঁকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। এরপর আদালত থেকে বেরোনোর সময় ‘দলের পাশে’ থাকার মন্তব্য করেন পার্থ।
বলে রাখা ভালো, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির জেরে গ্রেফতার করা হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর গ্রেফতারির পরই তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তৃণমূল। সমস্ত মন্ত্রিত্ব পদ তো বটেই, তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় পার্থকে। তবে তৃণমূলের তরফে এও বলা হয় যে পার্থ যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে দল তাঁকে সসম্মানে ফেরাবে।





