নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে বের করে আনার সময় প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিজিৎ-এর মৃতদেহ ছিল এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে।
সেই মৃতদেহ আনার সময় পুলিশের সঙ্গে বচসার জেরে এক হোম গার্ডকে টেনে এক থাপ্পড় মারেন এক বিজেপি নেতা। এই ঘটনায় নিজের দলের লোককে সমর্থন করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “মেরে থাকলে ঠিক করেছে”।
আরও পড়ুন- চারমাস পর সাদা কাপড়ে মুড়ে ফিরছে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের মরদেহ, ছেলের অপেক্ষায় কাতর মা
আজ, বৃহস্পতিবার এনআরএস হাসপাতালের মর্গ থেকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দীর্ঘ সাড়ে চার মাস পর বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়। সেই মৃতদেহ নিতে যান বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি-সহ আরও কিছুজন। কিন্তু হাসপাতালে পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহ বের করে আনার সময় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন দেবদত্ত মাজি।
এই সময় অমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক হোমগার্ডকে থাপ্পড় মেরে বসেন ওই বিজেপি নেতা। তাঁর দাবী, তিনি বাধ্য হয়ে এমন করেছেন। তিনি থাপ্পড় মারতে চান নি, কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে তিনি এটা করে ফেলেন। দেবদত্তবাবুর কথায়, “৮–৯ বছর আগে অভিজিৎ ও তাঁর দাদা আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় দুই ভাই প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু এবারে আর অভিজিৎ পারেনি”।
এদিন হাসপাতালের মর্গ থেকে অভিজিৎ সরকারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুরলীধর সেন লেনের রাজ্য বিজেপি সদর দফতরে। সেখানে নানান বিজেপি নেতারা তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর অভিজিৎ-এর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কাঁকুড়গাছিতে তাঁর বাড়িতে। সেখান থেকে দেহ শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে এদিন বিজেপি নেতার হোমগার্ডকে এই থাপ্পড় মারার ঘটনায় বিজেপি নেতাকে সমর্থন করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সরকারের গালে থাপ্পড় মারা উচিত। হোমগার্ডকে মেরে ঠিক করেছেন”। তবে দিলীপ ঘোষের এমন মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “দিলীপ ঘোষ নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছেন”।





