একের পর এক নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে কার্যত রাজ্য থেকে ধূলিসাৎ হওয়ার জোগাড় বিজেপির। জোড়া উপনির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের ভরাডুবির পর রাজ্য নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন নানান নেতা। এই নিয়ে আগেই দলকে একহাত নিয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁ। এবার অনুপম হাজরাও ক্ষোভ উগড়ে বলেন, “আমাদের মতো পুরনো কর্মীরা রয়েছে শুধু মার খাওয়া আর জেলে যাওয়ার জন্য”।
গতকাল, রবিবার রাতেই ফেসবুকে লাইভ এসে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে সোচ্চার হন অনুপম। তিনি বলেন, “বিজেপিকে আমি তিনটে পর্যায়ে ভাগ করেছি। একটা ২০১৯ সালের আগে, সেটা ছিল বিজেপির কঠিন সময়। তখন কেউ ভাবতেই পারত না বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা। সেই সময় আমাদের মতো কয়েকজন এসেছিল। ২০১৯ এর লোকসভায় ১৮ টি আসন জেতার পর এল বিজেপির সুসময়। সেই সময় প্রচুর সুবিধাবাদী মানুষ এসেছেন। তাঁদের জামাই আদর করা হয়েছে। চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২০২১-এ সব আশা শেষ হতেই তাঁদের গলায় উলটো সুর”।
বেশ অভিমানের সুরেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমার মতো কয়েকজন আছি, যারা দলের খারাপ সময়ে ছিলাম। কিন্তু আচমকা কিছু লোক এসে ক্ষীর খেয়ে চলে গেল। বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমরা ছিলাম দর্শক।” অর্থাৎ তাঁর দাবি, দলে নতুনদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, পুরনো কর্মীদের কাজেই লাগানো হয়নি। এরপর লাগাতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “দলকে মতামত জানিয়েছিলাম। শোনা হয়নি। রাজ্য বিজেপিতে কথা বলার জায়গাই নেই। তবে পুরনো একনিষ্ঠ কর্মীরা কেন চলে যাচ্ছে, তা দলের দেখা উচিত”। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে ক্ষোভ থাকলেও তিনি বিজেপির হয়েই কাজ করে যাবেন।
এবার অনুপমের এই মন্তব্য নিয়ে তাঁকে সমর্থন করতে দেখা গেল বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। আজ, সোমবার অনুপমের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঠিকই বলেছেন। উনি কেন্দ্রীয় নেতা, এখানকার নেতাদের পরামর্শ দেওয়া ওনার কাজ। এখানে কী হচ্ছে, সেটাও জানানো উচিত কেন্দ্রে”।
দিলীপ আরও বলেন, “যে কোনও কারণেই হোক, ক্ষোভ-হতাশা রয়েছে। ফল ভালো করতে পারিনি আমরা। কর্মীদের উপর একটা চাপ আছে। অনেকে সক্রিয় হন নি এখনও, অনেকে এখনও বাড়ি ঢুকতে পারেনি অত্যাচারের ভয়ে”। কথা বলেই এই সমস্যার সমাধান করার পরামর্শ দেন এদিন দিলীপ ঘোষ।






