কলকাতায় থাকলে নিয়ম করে প্রতিদিনই প্রাতঃভ্রমণে যান বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি রাজ্যের নানান ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। রাজ্য সরকারকে (State Government) শানাতেও কসুর করেন না। আজ, সোমবারও এর অন্যথা হল না। এদিন একাধিক ইস্যু নিয়ে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ।
আজ, সোমবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। আদালতের রায়ে ১,৯১১ জনের পর এবার ২,২৫০ জনের চাকরি চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “সবে তো শুরু। রাজ্যের সব দফতরে প্রায় ২৫ হাজার লোক টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনেকে টাকা দিয়েও চাকরি পাননি। নিয়োগ নিয়ে এই যে বিরাট দুর্নীতি হয়েছে, এর একটা শেষ হওয়া উচিত। মাননীয় বিচারপতি ঠিক জায়গায় হাত দিয়েছেন”।
গত ২৪শে ডিসেম্বর কোচবিহারের গীতলদহে এক যুবককে পাচারকারী সন্দেহে গুলি করে বিএসএফ। মৃত্যু হয় ওই যুবকের। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের মাথাভাঙায় এক সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে তিনি এইর শেষ দেখে ছাড়বেন। এমনকি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে শানিয়ে তাঁর বাড়ি ঘেরাও করারও ডাক দেন তিনি। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। কোনও কাজ নেই, টাকা নেই, চাকরি নেই। সেই কারণে ওরা বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছে। কিছু একটা করে সংবাদমাধ্যমের ফোকাসে থাকা যায়। এখানে রোজ খুন হয়। এফআইআর পর্যন্ত হয়না। সেই নিয়ে তদন্ত দাবি না করে, তার বদলে মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও? এটা ওদের পতনের ইঙ্গিত”।
অন্যদিকে আবার বিরভুমের তৃণমূল নেতা কাজল শেখ দাবী করেছেন যে অনুব্রত মণ্ডল নাকি জেল থেকেই ফোন করে নানান নির্দেশ দিচ্ছেন আর সেই নির্দেশেই চলছে দল। এই নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হতেই মেদিনীপুরের সাংসদ এই প্রসঙ্গে বলেন, “এই নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছে। উনি জেল থেকে জেলা অপারেট করছে। বীরভূমের বাইরে থেকে এই কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই কায়দা করে বীরভূমের জেলে ওনাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনার কথা সিবিআই জানে বলেই তাঁকে দিল্লি নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু কোনওভাবে তাঁকে এখানে আটকে রেখে এই ভাবে কাজ করানো হচ্ছে”।
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে বদলি করা হয়েছে। তা নিয়ে বেশ জল্পনা ছড়িয়েছে। সেই নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, “রাজ্যপাল বিদ্যান লোক, তাই ওনার ওপর ভরসা রাখা উচিত। উনি সব দেখেছেন ও বুঝেছেন। উনি বিচক্ষণ মানুষ, নিজের মতো কাজ করবেন। জ্যপাল সাংবিধানিক পদ। তিনি নিয়ম কানুন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনও একটা সিদ্ধান্ত কারুর পক্ষে যায়নি বলে তাকে শত্রু ভাবার কারণ নেই”।





