সাধারণ মানুষের সমস্যা যেন লেগেই রয়েছে শহরে। আজ এই তো কাল ওখানে—কখনও রাস্তার কাজ, কখনও জলের সমস্যা, কখনও বা যানজট! উন্নয়নের জন্য কাজ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই কাজের ধাক্কায় সাধারণ মানুষই প্রতিদিন নতুন কোনও সমস্যার মুখে পড়ছেন। অফিস টাইমে বেরিয়ে ট্রাফিকে আটকে থাকা, গন্তব্যে পৌঁছতে দীর্ঘ পথ হাঁটা, বিকল্প পরিবহন না পেয়ে সময় নষ্ট—এ যেন শহরের নিত্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে!
এবারও তার ব্যতিক্রম নয়! প্রতিদিন অফিস যাত্রী, ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রী থেকে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের সমস্যার শেষ নেই। শহরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাস্তা বন্ধ থাকায় মানুষকে নাকাল হতে হচ্ছে। গাড়ির দীর্ঘ লাইন, পথচলতি মানুষদের ক্ষোভ, গন্তব্যে পৌঁছতে সময়ের অপচয়—এসব দৃশ্যই এখন রোজকার বাস্তবতা। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি?
দমদম জংশন স্টেশনের নিচে নাগেরবাজারের দিকে যাওয়ার মূল রাস্তা সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এই রুটে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নাগেরবাজার থেকে চিড়িয়ামোড় যাওয়ার রাস্তা খোলা থাকলেও পুরো ট্রাফিক ওই পথে যাওয়ায় যানজটের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। অটোস্ট্যান্ডও পরিবর্তন করা হয়েছে। দমদম থেকে নাগেরবাজারগামী অটো আগে যেখানে দাঁড়াত, এখন তা অনেকটা আগেই থামছে। ফলে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ চিকিৎসকদের সুবিধা না রাজনীতির চাল? বেতন বাড়িয়ে নতুন নিয়ম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!
প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই রুট ব্যবহার করেন। রাস্তা বন্ধ থাকায় তাঁদের সময় নষ্ট হচ্ছে, অতিরিক্ত পথ হাঁটতে হচ্ছে, পাশাপাশি যানজটের কারণে কাজের সময়ও নষ্ট হচ্ছে। দক্ষিণ দমদম পৌরসভা ও PWD বিভাগ যৌথভাবে এই সংস্কার কাজ করছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের গতি খুবই ধীর এবং যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া এই কাজ শুরু করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা, দমদম ব্রিজের নিচে যে কাজ চলছে, তার কারণে পুরো রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নাগেরবাজারগামী যাত্রীদের বিকল্প পথে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করছে। দ্রুত যদি কাজ শেষ না হয়, তাহলে সমস্যার আরও বৃদ্ধি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সেই উত্তর এখনও মিলছে না।





