গতকাল সবথেকে বড় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। করোনাভাইরাসের জেরে তৈরী হওয়া পরিস্থিতিতে এবার পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আদালত। সোমবারের রায়ে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজ্যের সব পুজো মণ্ডপকে ‘নো এন্ট্রি’ জোন(no entry zone) হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। মণ্ডপের বাইরে ব্যারিকেড করতে হবে। মণ্ডপে কোনও দর্শনার্থী ঢুকতে পারবেন না।
পুজোর আগে যেভাবে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে, তাতে সেই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসক মহলের সবাই। কষ্ট চেপে স্বাগত জানিয়েছে আমজনতাও। যদিও সেই রায়ের পরদিনই পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে গিয়েছে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটি। সেই কমিটির আওতায় কলকাতার ৩৫০ টি জনপ্রিয় পুজো আছে। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে সূত্রের খবর।
আর তাই দুর্গাপুজোর রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানায় ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সেই আবেদন গ্রহণ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেটির শুনানির জন্য সবপক্ষকে নোটিশ দিয়ে আগামিকাল (পঞ্চমী) হাইকোর্টে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটির (Forum for Durga utsav committee) পক্ষের অর্থাৎ মামলাকারীদের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে জনস্বার্থ মামলা শুনছিল, সেটির রায়ে প্রতিটি পুজো মণ্ডপের বাইরে ব্যারিকেড করার নির্দেশ দিয়েছে। বড় মণ্ডপের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ মিটার দূরে ব্যারিকেড করতে হবে। ছোটো মণ্ডপের ক্ষেত্রে ব্যারিকেডের দূরত্ব হবে পাঁচ মিটার।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছোটো মণ্ডপে ১৫ জন সদস্যকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। বড় মণ্ডপের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ২৫। যাঁরা প্রবেশ করতে পারবেন, আগেভাগে তাঁদের ঠিক করতে হবে এবং নিয়মিত পরিবর্তন করা যাবে না। পুজো উদ্যোক্তাদের সেই নামের তালিকা দেখাতে হবে।’





