১০-২০ কোটি নয়, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির (recruitment scam) পরিমাণ এখন ৩৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, আদালতে এমনটাই দাবী করলেন ইডি-র আইনজীবী। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Shantanu Banerjee) দুটি ফোন এখন ‘সোনার খনি’। সেখান থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলবে বলে দাবী কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের।
ইডি-র আইনজীবী দাবী করেন যে শান্তনুর ফোনে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা থেকে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। গতকাল, সোমবার শান্তনুকে আদালতে পেশ করলে এমনই দাবী করেন ইডি-র আইনজীবী। এদিন শান্তনুর জামিনের আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী শান্তনুকে প্রভাবশালী তকমা দিয়ে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেন। এরপরই শান্তনুর জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে ২৪শে মার্চ পর্যন্ত ইডি-র হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
গতকাল, সোমবার ব্যাঙ্কশালের বিশেষ ইডি আদালতে পেশ করা হয় শান্তনুকে। তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে ইডির আইনজীবী দাবী করেন যে নিয়োগ দুর্নীতির জাল এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে মাউন্ট এভারেস্টকেও ছোটো পাহাড় বলে মনে হবে।
তাঁর কথায়, তিনমাস আগেও যেখানে ১১১ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্ধান মিলেছিল, এখন সেই দুর্নীতির অঙ্ক পৌঁছেছে ৩৫০ কোটিতে। ইডি-র আইনজীবীর আরও দাবী, শান্তনুর থেকে যে দু’টি ফোন পাওয়া গিয়েছে, তা কার্যত ‘সোনার খনি’। প্রচুর চাকরিপ্রার্থীর তালিকা রয়েছে ওই দুই ফোনে।
এদিন ইডি-র আইনজীবী আরও দাবী করেন, “শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য দু’জন সরকারি নিরাপত্তা আধিকারিক ছিলেন। যখন বলাগড়ে শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি হয়, তখনও উপস্থিত ছিলেন ওই দুই পিএসও”।
এরপরই আইনজীবীর প্রশ্ন, শান্তনুর উপর কী এমন হুমকি ছিল যে দু’জন পিসিও নিয়োগ করা হয়েছিল? অনেক আদালতের বিচারক এমনকি, যারা ভারত-বাংলাদেশের জঙ্গিদের বিচার করেন, তাদেরও দু’জন পিসিও থাকে না। ইডি-র আইনজীবীর মতে, এটাই প্রমাণ যে শান্তনু প্রভাবশালী। এরই মাঝে শান্তনুর আইনজীবী তাঁর জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ করে শান্তনুকে ২৪শে মার্চ পর্যন্ত ইডি-র হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।





