উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 pargana) দত্তপুকুর (Duttapukur) থেকে জাল পাসপোর্ট চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোক্তার আলম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে ২০২১ সালেও একই অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবারের তদন্তে তার বাড়ি থেকে একাধিক ব্যক্তির প্যান কার্ড, আধার কার্ড এবং ATM কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় রাজ্যের জাল পাসপোর্ট চক্রের চক্রব্যূহ আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
মোক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে জাল পাসপোর্ট তৈরি করে তা চোরাপথে পাচার করত। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ায়, এই চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে অনুমান করছে তদন্তকারীরা। দত্তপুকুরে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এতে একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয়পত্রের নকল নথি পাওয়া গেছে, যা তদন্তকে নতুন দিকে পরিচালিত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মোক্তার এলাকায় “ভালো ছেলে” হিসেবেই পরিচিত ছিল। তার আমদানি-রফতানির ব্যবসার কথা এলাকাবাসী জানত, তবে জাল নথি তৈরির মতো অপরাধে সে জড়িত ছিল তা অনেকেরই ধারণার বাইরে। পুলিশ জানিয়েছে, মোক্তারের আগে গ্রেফতার হওয়া সমরেশ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। সমরেশকেও আগে একই চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ এখন মোক্তারের ফোনের রেকর্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে।
মোক্তারের বাড়ি থেকে পাসপোর্ট ছাড়াও ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, এবং একাধিক ব্যক্তির প্যান কার্ড উদ্ধার হওয়ায় প্রশাসন মনে করছে, এই চক্রটি শুধুমাত্র পাসপোর্ট নয়, আরও অনেক ধরনের নকল নথি তৈরিতে জড়িত। এমনকি, উদ্ধার হওয়া নথির সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, মোক্তারের ব্যবসার নামে বেশ কিছু সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে, যা এই চক্রের আর্থিক সংস্থান হিসেবে কাজ করত।
আরও পড়ুনঃ আরামবাগে আবাস যোজনার টাকা নিয়ে তৃণমূল নেতার তোলাবাজি, আতঙ্কিত উপভোক্তা!
বাংলায় জাল পাসপোর্ট চক্রের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশের একাংশ মনে করছে, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদী চক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে। দত্তপুকুরের এই গ্রেফতারির পর আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন এখন মোক্তারের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের গভীরতা এবং অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।





