আরামবাগের আরাকুল গ্রামে আবাস যোজনার টাকা বিতরণের পর স্থানীয় তৃণমূল (TMC) নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় নেতা এবং তার সহযোগীরা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনও নীরব, ফলে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ে এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর সাহস পাচ্ছেন না।
জানা গেছে, আরামবাগের আরান্ডি ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের আরাকুল গ্রামে আবাস যোজনার আওতায় ১৬ জন উপভোক্তা বাড়ি পেয়েছেন। অভিযোগ, বাড়ির টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকানোর সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল নেতা সোহরাব হোসেনের ভাইপো আরাফাত ও তার দলবল গ্রামে গিয়ে ভয় দেখিয়ে উপভোক্তাদের টাকা আদায় করছেন। উপভোক্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অনেকেই চাপে পড়ে টাকা দিয়েছেন। এমনকি, কেউ কেউ জানিয়েছেন, টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী দাবি করেছেন, যদি এই অবস্থা বিরাজিত থাকে, তবে এখানে খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। এর পাশাপাশি, তিনি আরামবাগ পুলিশ প্রশাসনের উদাসীনতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে কিছুই করা হয়নি, এলাকার পরিস্থিতি যেন ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। আরাফাত ও তার দলের সদস্যরা এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, আর উপভোক্তাদের প্রাণের আতঙ্কে টাকা দিতে বাধ্য করছেন।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকা সফরে বেরিয়েছেন আরান্ডি ১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ইকবাল হোসেন। তিনি উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের টাকা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সেখ আরাফাত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তার দাবি, যদি এই ধরনের কিছু ঘটে থাকে, তবে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।
আরও পড়ুনঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ৮ তলার OT নিয়ে বিতর্ক চরমে, CBI তদন্ত ঘিরে প্রশ্ন!
রাজনৈতিক পর্যায়ে, বিজেপি অভিযোগ তুলেছে যে, রাজ্যজুড়ে পুলিশ শাসকদলের পক্ষ হয়ে কাজ করছে এবং আরামবাগে এর ব্যতিক্রম ঘটছে না। প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং স্থানীয় জনগণের দাবি, তারা যেন নিরাপদে তাদের আবাস যোজনার বাড়ি পায় এবং তার পাশাপাশি তাদের জীবনও রক্ষা হয়।





