‘কল রেকর্ডই প্রমাণ’, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতারি ফের উস্কে দিল বরুণ বিশ্বাস খু’নে মন্ত্রীর যোগের অভিযোগ, ফের সরব পরিবার

রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর এই গ্রেফতারির পরই ফের একবার উস্কে উঠল বরুণ বিশ্বাসের খু’নের সঙ্গে মন্ত্রীর যোগের অভিযোগ। ছেলের মৃত্যুর জন্য মন্ত্রীকেই দায়ী করেন বরুণ বিশ্বাসের বাবা। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের গ্রেফতারির পর তাঁর ফাঁসির দাবী তুলেছেন বরুণ বিশ্বাসের বাবা। ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও, তা এখনও দগদগে।

কী ঘটেছিল বরুণ বিশ্বাসের সঙ্গে?

ঘটনার সূত্রপাত ২০০০ সালে। সেই সময় গাইঘাটার সুটিয়ায় মহিলাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধ’র্ষ’ণের অভিযোগ উঠছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেন গ্রামবাসীরা। প্রতিবাদ মঞ্চ গড়ে ওঠে। সেই প্রতিবাদ মঞ্চের প্রধান মুখ ছিলেন তরুণ মাস্টারমশাই বরুণ বিশ্বাস। কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে শিক্ষকতা করতেন তিনি। প্রতিদিন গাইঘাটা থেকে কলকাতা যাতায়াত করতেন।

পুলিশে এই ধ’র্ষ’ণের প্রতিবাদের কারণে হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল বরুণ বিশ্বাসকে। কিন্তু দমে যান নি তিনি। বন্ধ করেন নি স্কুলে যাওয়াও। এই ধ’র্ষ’ণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরী ও আরও অনেকে গ্রেফতার হয়। দমদম সেন্ট্রাল জেলে ছিল তারা।

২০১২ সালের ৫ জুলাই। অন্যান্য দিনের মতোই শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে করে গোবরডাঙা স্টেশনে নামেন বরুণ। বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল। স্টেশনের বাইরে আসতেই দুষ্কৃতীরা গুলি করে তাঁকে। সেখানেই মৃত্যু হয়েছিল বরুণের। তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল, বরুণের খু’নের নেপথ্যে যোগ রয়েছে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। ১১ বছর পর সেই জ্যোতিপ্রিয়র গ্রেফতারিতে ফের একবার বরুণ বিশ্বাসের পরিবার তাঁর খু’নের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আঙুল তুলেছেন মন্ত্রীর দিকে। স্থানীয় এপিডিআর সদস্য নন্দদুলাল দাস বলছেন, কল রেকর্ডই তার প্রমাণ। আন্দোলনে তিনি বরুণের সহকর্মী ছিলেন। এই একই বক্তব্য বরুণের দিদি প্রমীলার।

সুটিয়ায় ধ’র্ষ’ণের প্রতিবাদ, চালুন্দিয়া খাল এবং ইছামতি নদী সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ৩৮ কোটি টাকা তছরুপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণেই বরুণ বিশ্বাসকে খু’ন হতে হয়। বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা রায় বিশ্বাসের দাবী, এই খু’নের পেছনে হাত ছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। তিনি এও জানান যে বরুন খু’ন হওয়ার পর তাঁকেও হুমকি ও শাসানির মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মিথ্যা মানহানির মামলাও করা হয়। প্রমীলাদেবী চান, কঠোর শাস্তি হোক তাঁর ভাইয়ের খু’নিদের।

এই ঘটনায় এপিডিয়ার চাঁদপাড়া শাখার সভাপতি চালন্দিয়া খাল বাঁচাও কমিটি সদস্য তথা বরুণ বিশ্বাসের সহযোগী নন্দদুলাল দাস বলেন, ”যেদিন বরুণ খুন হয়, সেদিন জ্যোতিপ্রিয়র কণ্ঠস্বরের কল রেকর্ড কাছে আছে। চালন্দিয়া খাল ভরাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেছিলাম আমরা৷ বরুণ ছিল তাঁর মুখ৷ সে কারণেই খুন হতে হয়েছিল বরুণকে। খুনের পর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ফোন করা হয়েছিল। তাঁকেই জিজ্ঞেস করা হয়, এর পর কী করা হবে। কল রেকর্ড পরীক্ষা করলেই তা পাওয়া যাবে। উত্তর ২৪ পরগনায় নামে বেনামে প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে জ্যোতিপ্রিয়র”৷

RELATED Articles