প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PM Awas Yojna) নিয়ে রাজ্য থেকে একাধিক দুর্নীতির (corruption) অভিযোগ সামনে এসেছে। যারা অযোগ্য, যাদের নিজস্ব পাকাবাড়ি রয়েছে, তাদের নাম উঠছে এই তালিকায়। অথচ যাদের মাটির বাড়ি বা বাড়ির ভগ্নপ্রায় অবস্থা, তারাই ঘর পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এই নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় বিজেপির তরফে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছেন যারা ঘর পান নি, তারা যেন আদালতে মামলা করেন। তাদের সাহায্য করবে বিজেপি। যদিও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
গতকাল, মঙ্গলবার মালদহের গাজলে সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের শহর বালুরঘাটেও সভা করেন তিনি। এদিন বালুরঘাটের সভায় সুকান্তর নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “(আবাস যোজনা প্রসঙ্গে) আমি আর সুকান্ত মিলে বড় চোরেদের তাড়াব। গ্রামে ছোট চোরদের ভো-কাট্টা করার দায়িত্ব আপনাদের। ঘর দিতে টাকা নেওয়া চোরেদের তাড়ান”। এর আগেই তিনি গাজলের সভায় বলেছেন, “তালিকা এখনও ত্রুটিমুক্ত নয়। যাঁরা ঘর পাননি, জনস্বার্থে আদালতে মামলা করুন। বিজেপি আপনাকে সাহায্য করবে”।
এদিন গাজলের সভাতেই আবাস যোজনার আবেদনপত্র পূরণের কাজ চলল। বিজেপি নেতারা আবেদনপত্র জমা নেন। সেই কারণে বেশ হুড়োহুড়িও পড়ে যায় সভায়। এদিন সভা শেষেও চলে আবেদনপত্র পূরণ ও জমা নেওয়ার কাজ।
এই আবাস যোজনা নিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মাটির বাড়ি থাকলেও সরকারি ঘর পাইনি। শুভেন্দুর সভায় আবাস যোজনার আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। বিজেপি বলেছে, তাঁর কাছে আবেদনপত্র জমা দিলে তিনি আমাদের ঘর দেবেন”।
এই ভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবেদনপত্র জমা নেওয়ার বিষয়টিকে বেআইনি বলে দাবী করেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এদিনতিনি স্পষ্ট বলেন, “সভায় লোক আসছে না। তাই আবাস যোজনার ফর্ম বিলির কথা বলে ভিড় করতে চাইছে। এটা শুধু বেআইনি কাজ-ই নয়, মানুষকে মিথ্যাও বলা হচ্ছে”।
অন্যদিকে, বাঁকুড়ার সিমলাপালের এক জনসংযোগ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকারও এই আবাস যোজনায় দুর্নীতির প্রসঙ্গে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা নিয়ে কেলেঙ্কারি করেছে। মানুষ এর বিরুদ্ধ যে ভাবে নেমেছেন, তাতে আগামী দিনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে হতে পারে”। তিনি আরও বলেন, “মিথ্যে কথা বললেই তৃণমূলকে ধোলাই দিয়ে দিয়ে গ্রাম থেকে বিদায় করুন”।





