মর্মান্তিক! ভ্যানের চাকায় পিষে দু’টুকরো হয়ে গেল ৫ বছরের শিশুর দেহ, দেহাংশ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েও হল না শেষরক্ষা

মোটরচালিত ভ্যান চলে যায় পেটের উপর দিয়ে। ভ্যানের চাকায় পিষে গিয়ে দু’টুকরো হয়ে যায় দেহ। তখনও ৫ বছরের চন্দন সমানে বলে চলেছে, “আমি ঠাকুরমার কাছে যাব। আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে চলো”। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চন্দনকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বাড়ির লোকজনের সামনেই নিস্তেজ হয়ে যায় ৫ বছরের ওই শিশু।

কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, বুধবার বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। সূত্রের খবর, কাটোয়া থানার অগ্রদ্বীপে খড়বোঝাই মোটরচালিত ভ্যানের চাকায় পিষে গিয়ে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছিল চন্দন হালদার নামের ৫ বছরের ওই শিশুর দেহ। অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ তলার বাসিন্দা সে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে অগ্রদ্বীপ ঘাট-বেথুয়াডহরি রোডে।

কীভাবে ঘটল এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?

জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে তার ঠাকুমার হাত ধরে একটি শ্রাদ্ধবাড়ি থেকে ফিরছিল ওই শিশু। সেই সময়েই তাকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে ওই খড়বোঝাই মোটরভ্যানটি। মুহূর্তের মধ্যে ঠাকুরমার হাত থেকে ছিটকে যায় চন্দন। এরপরই মোটরচালিত ভ্যানের চাকা চলে যায় চন্দনের পেটের উপর দিয়ে। দু’টুকরো হয়ে যায় শিশুর দেহ।

কাছাকাছিই ছিল অগ্রদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ি। তড়িঘড়ি ছুটে আসেন পুলিশকর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে মোটরচালিত ভ্যানের চালক পালিয়ে গিয়েছে। পুলিশ দ্রুত শিশুটির শরীরের দু’ভাগ উদ্ধার করে চিকিৎসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে। নিয়ে যাওয়ায় মহকুমা হাসপাতালে।

ওই শিশুর দাদু ও পিসি চন্দনের দেহাংশ নিয়ে পৌঁছন হাসপাতালে। তখনও চন্দন বেঁচে রয়েছে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে পাঁচ বছরের শিশুটি। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।

এই ঘটনায় এক সিভিক ভলেন্টিয়ার সুধাময় দত্ত বলেন, “এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায় না। ঘটনাস্থল থেকে গাড়িতে চাপানোর সময় থেকে কাটোয়া হাসপাতালের গেট পর্যন্ত সময় ধরে ছেলেটা কথা বলেছে। কিন্তু জরুরি বিভাগে ঢোকানো মাত্রই কথা বন্ধ হয়ে যায়”।

আরও অন্যান্য খবর