এবারের ভোটে ভরাডুবি হয়েছে ৩৪ বছর বাংলা শাসন করা দলটার। একটা আসন থেকেও জেতেনি সিপিআইএম। এইরকম বিপর্যয়ের পরই প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলে ছিলেন সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। তাঁকে গতকালই শো-কজের চিঠি ধরিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
তবে আর নয়। সিপিএমের অচলায়তনের বিরুদ্ধে এবার এক এক করে মুখ খুললেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, অশোক ভট্টাচার্য l
নির্বাচন এবং বিপর্যয়ের পর এবার বেসুরো হলেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক। বিধানসভা ভোটে বামেদের বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি আব্বাসের সঙ্গে জোটকেই দুষলেন তিনি। কোনও রাখঢাক না রেখেই জানিয়ে দিলেন, আইএসএফ-র সঙ্গে এই জোট ছিল মহাভুল।
নিজের শিষ্যের কাছেই এবার পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে অশোককে। শিলিগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক স্পষ্ট বলেছেন, আর কোনওদিন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দিতা করবেন না। আলিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে এ বার তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে নামলেন অশোকও। অভিমান ঝরে পড়ল তাঁর গলাতেও।
শিলিগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, “আমি কী অপরাধ করেছিলাম? নিজের দায়িত্ব পালন করিনি? যাঁরা কথা দিয়েছিলেন ভোট দেবেন, তাঁরা কেন দিলেন না? এই অভিমান আমার থাকবে। মন দিয়ে নিজের সেরাটা দিয়েছি। তবুও হারতে হল। এ বার নির্বাচনে দাঁড়াতেই চাইনি। দল জোর করে দাঁড় করিয়েছিল। আগামী কোনও নির্বাচনে আর দাঁড়াবো না। দলকে জানিয়ে দিয়েছি, সেই সিদ্ধান্তে অনড় থাকবো।”
বিধানসভা নির্বাচনের শুরুতেই যখন আইএসএফ ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বদ্ধ হয় সিপিএম তখন থেকেই ক্ষোভ ছিল বাম শিবিরে। নীতিগতভাবে কখনোই এই দুটি দলের সঙ্গে জোট সমর্থন করেনি অনেকেই। বিশেষত আব্বাসের দলের সঙ্গে।
এই বিষয়ে অশোক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, “আমাদের জাত-কূল দুটোই গিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন সিদ্দিকির সঙ্গে জোটের জেরে হিন্দু ভোট সরে গেছে বামেদের থেকে। শিলিগুড়িতে তা প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু পাশের চোপড়ায় সংখ্যালঘু ভোটও তো আমরা পাইনি। সবটাই তৃণমূল নিয়ে গিয়েছে। এসবের চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে।”
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চার তরফে শুধুমাত্র আইএসএফ একটি আসনে জয়যুক্ত হয়েছে। ভাঙ্গড় কেন্দ্রে জিতেছে আইএসএফ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আক্ষেপ করেছেন বামেদের এইরকম ফলাফল দেখে।





