অবাক কান্ড! বিয়ে বাড়িতে গেলেই দিতে হবে রক্ত, ভোজ খেতে গিয়ে হতবাক গ্রামবাসীরা

অনেকেই কুষ্ঠি মিলিয়ে বিয়ে করাতে বিশ্বাসী তবে এখনকার দিনে বিয়ের আগে প্রয়োজন রক্তপরীক্ষা করা। কেন প্রয়োজন বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা এখনো বেশিরভাগ মানুষই সে সম্বন্ধে জানেন না। রক্তপরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, কেন বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন এবং সেই সঙ্গে বিবাহের উদ্ভব এবং ক্রমবিবর্তন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল বিয়েবাড়িতে। বিয়েবাড়িতে এই অভিনব প্রচার সারা হল রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে। শহর কলকাতায় নয়, মেদনীপুর জেলার এক গ্রামে করা হয়েছিল এই আয়োজন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের প্রত্যন্ত আদাসিমলা গ্রামের বিয়ে বাড়িতে করা হয়েছিল রক্ত পরীক্ষার আয়োজন।

লক্ষ্মণচন্দ্র বেরা আগাগোড়া বিজ্ঞানমনস্ক।আদাসিমলা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পেশায় তিনি প্রাক্তন শিক্ষক। তাঁর এক মেয়ে ও এক ছেলে। মানুষকে সচেতন করে তোলাই ছিল লক্ষ্য। ৬ বছর আগে মেয়ের বিয়েতে গ্রামে এমন স্বাস্থ্য সচেতনতা, আলোচনাসভা, রক্তপরীক্ষা, স্বাস্থ্যপরীক্ষার আয়োজন করেছিলেন। এ বার ছেলের বিয়েতেও বাদ পড়ল না সেই নিয়ম। হবু পুত্রবধূর কাছে অনুমতি নিয়েছেন এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে। এমন অভিনব প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন তার পুত্রবধূ ।

বিয়েবাড়ির প্যান্ডেলে ছিল গ্রামের মানুষের ভিড়। তবে শুধুমাত্র ভালো-মন্দ খেতেই নয় বিয়ের অনুষ্ঠানে কেউ কেউ এসেছেন রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা শুনতে আবার কেউ কেউ এসেছেন রক্তের গ্রুপ জানতে। এই উদ্যোগে প্রশংসা করেছেন আত্মীয়-স্বজনরা। লক্ষণ বাবুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকাবাসী। তবে কটাক্ষ কম শুনতে হয়নি। অনেকেই এসব পছন্দ করেননি একেবারেই।

প্রাক্তন শিক্ষক লক্ষ্মণচন্দ্র বেরা বলেন, “আমার ইচ্ছেই ছিল মেয়ে এবং ছেলের বিয়েতে শুধু আনন্দ, হুল্লোড় আর খাওয়াদাওয়া নয়, সচেতনতা প্রচারও দরকার। এসবের ফাঁকে কিছু কথা শোনার আবেদনও করেছি বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে। যেখানে একসঙ্গে এত মানুষ উপস্থিত হচ্ছেন, সেখানে কিছু অন্তত সচেতনতার বার্তা দিই।”

জানা যায়, ৬ বছর আগে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন আয়োজন বেশিরভাগ মানুষকে সতর্ক করেছিল। তাই লক্ষণ বাবুর ছেলের বিয়ে শুনে তাকে বলেছিলেন, ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানেও আগের বারের মতো আলোচনা সভা ও রক্তপরীক্ষার আয়োজন করার কথা। সে সবসময় খুশি মনেই লক্ষণ বাবু সম্মতি জানিয়েছিলেন এই আলোচনা সভায়।

লক্ষণবাবু বলেন, “আমি এমন কথা শুনে খুব খুশি। ভাবলাম, মানুষ তাহলে আমার আয়োজনকে গ্রহণ করেছেন। তাই ৩ মার্চ ছেলের বিয়ের প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানেও এমন আয়োজন করেছি। কিছু মানুষও যদি এর গুরুত্ব বোঝেন, তাহলেই আমার আয়োজন সার্থক।”

এ প্রসঙ্গে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী বলেন, “খুবই ভালো উদ্যোগ। যেখানে মানুষের ভিড় হয়, এমন যে কোনও অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রচার হলে খুবই ভালো। সবংয়ের প্রত্যন্ত গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষকের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। আজকের দিনে এই ধরনের উদ্যোগের ভীষণ প্রয়োজন।”

RELATED Articles