’২৯ বছর এই হাইকোর্টের অলিন্দে কাটিয়েছি’, বিদায়বেলায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়, চোখে জল মামলাকারীদেরও

রবিবারই জানিয়েছিলেন যে আগামী মঙ্গলবার ইস্তফা দেবেন তিনি। সোমবারই হবে হাইকোর্টের এজলাসে তাঁর শেষ দিন। তেমনই হল। সোমবার শেষবারের মতো হাইকোর্টে নিজের এজলাস থেকে বেরিয়ে এলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিদায়বেলায় ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। আদালতে উপস্থিত মামলাকারীদেরও চোখের জল যেন বাঁধ মানল না।

গতকাল, রবিবার এক সংবাদমাধ্যমে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান যে আগামী মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করবেন। কোনও ‘বৃহত্তর ক্ষেত্রের’ লক্ষ্যেই এই পদত্যাগ তাঁর। জানিয়েছিলেন যে রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। তবে কোন দলে তিনি যোগ দিচ্ছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও পাল্লা যে বিজেপির দিকেই ভারী, তা বেশ পরিষ্কার। শাসক দলের বিরুদ্ধে তো তিনি নিজে আক্রমণই শানিয়েছেন একাধিকবার।

আজ শেষবার নিজের এজলাস থেকে বেরিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন আইনজীবী কমলেশ ভট্টাচার্য তাঁকে বলেন, “আপনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাচ্ছি। আপনি চলে গেলে অনেক ক্ষতি হবে। আমাদের ছেড়ে যাবেন না”। প্রেক্ষিতে সেভাবে কিছু বলেন না বিচারপতি। শুধু বললেন, “প্রায় ২৯ বছর এই হাইকোর্টের অলিন্দে কেটেছে”। সোমবারই সমস্ত মামলা তাঁর এজলাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   

মোট ৬৪টি মামলা ছিল বিচারপতির এজলাসে। ৬৩টি মামলা ছেড়ে দেন তিনি। একটি মামলায় অর্ডার দিয়েছেন। এদিন আদালতে চোখের জলে ভাসালেনব মামলাকারীরাও। এক মহিলা বিচারপতির দিকে এগিয়ে এসে বলেন, “আমি আপনার কাছ থেকে একটি মামলায় অনেক সুরাহা পেয়েছি। আপনার জন্য আমার সন্তান চিকিৎসা পেয়েছিল। আমি খোরপোষের টাকা পাই। কাল খবরটা পেয়ে ছুটে এসেছি। আপনার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে চাই”।

বিচারপতি ওই মহিলার কাছে জানতে চান, তাঁর সন্তান কেমন আছে? মহিলাকে বলেন, “আমি পায়ে হাত দিয়ে কারও প্রণাম নিই না”। এক মামলকারী বলেন, “এই ১৭ নম্বর এজলাস ছিল আমাদের কাছে মন্দির। আপনি চলে গেলে আমাদের কী হবে”?

এদিন আদালতে উপস্থিত মামলকারীদের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “আমার যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। আমার জায়গায় অন্য কেউ আসবেন। তিনি নিশ্চয়ই আপনাদের সুরাহা করবেন”। বলে রাখি, রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা যে বিজেপির টিকিটে তমলুক কেন্দ্র থেকে আসন্ন নির্বাচনে লড়তে পারেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

RELATED Articles