দেশজুড়ে এখন রান্নার গ্যাসের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করানোর হিড়িক শুরু হয়েছে। এলপিজি গ্যাদসের কনজিউমার নম্বরের সঙ্গে আধারের বায়মেট্রিক লিঙ্কের জন্য আপাতত নানান গ্যাস ডিলারের দোকানের সামনে পড়ছে লম্বা লাইন। এমন পরিস্থিতিতে এবার রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকেই অভিযোগ আসছে যে গ্যাসের সঙ্গে আধারের লিঙ্ক করাতে গেলেই গ্রাহকদের হাতে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে হোশ অর্থাৎ গ্যাসের সুরক্ষা পাইপ। আর এই করে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে ১৯০, ২০০ এমনকি ৬০০ টাকাও।
ঠিক কী বলা হচ্ছে সার্ভিস সেন্টার থেকে?
কৃষ্ণনগরে বাড়ি রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের। তাঁর স্ত্রী সোমা বিশ্বাসের নামে বুধবার অভিযোগ উঠেছে। কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় গ্যাস সার্ভিস সেন্টার রয়েছে সোমাদেবীর। তিনিই এর লাইসেন্স হোল্ডার। অভিযোগ, এখানেই বুধবার আধারের লিঙ্ক করাতে এলে ২০০ টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ, ২০০ টাকা নিয়ে পাইপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যার দরকার নেই, তাঁকে বলা হচ্ছে এরপর সার্ভিস দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় উত্তপ্ত গোটা এলাকা।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাইতেও এই একই অভিযোগ। সেখানেও গ্যাসের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করাতে গেলে গ্যাসের পাইপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এরপরই চাওয়া হচ্ছে ১৯০ টাকা করে। গ্রাহকরা যখন বলছেন যে তাদের পাইপ লাগবে না, বকারিতে রয়েছে। তখন বলা হচ্ছে যে সেই পাইপ অনেক পুরনো হয়েছে গিয়েছে। নতুন পাইপ নিতেই হবে।
এই পাইপ কেনা কী বাধ্যতামূলক?
এই বিষয়ে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বিজন বিশ্বাস বলছেন, “সুরক্ষা হোস সকলকেই নিতে বলা হয়। গ্রাহকের সুরক্ষার কথা ভেবেই তা বলা হয়। তবে চাইলে গ্রাহক তা নাও কিনতে পারেন। বাধ্যতামূলক নয়। আর এর জন্য পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ারও কোনও প্রশ্নই নেই”।
অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড সূত্রে খবর, গ্যাসের কেওয়াইসির কোনও টাকা নেওয়ার নিয়মই নেই। হোশ যদি পাঁচ বছরের পুরনো হয়, তাহলে তা নেওয়া যেতে পারে। আবার নাও নিতে পারেন গ্রাহকরা। এটা কোনওভাবেই বাধ্যতামূলক নয়।
তাহলে কেন আধার লিঙ্কের সময় জোর করে গ্রাহকদের হাতে গ্যাসের পাইপ গুঁজে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কারোর কারোর মতে, এভাবে বেআইনিভাবে টাকা আয় করা হচ্ছে স্রেফ, আর কিছুই নয়।





