গোসাবার পাঠানখালির তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়োকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে দুর্নীতি, তোলাবাজি, জমি ও ভেড়ি দখল, সরকারি প্রকল্পের টাকায় কাটমানি আদায়ের মতো একাধিক বিষয়। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর নামে প্রায় ৬৪ বিঘা জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ বিঘা এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশাল বাগানবাড়ি এবং প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রয়েছে মাছের ভেড়ি। এছাড়াও গোসাবার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, বড়সড় পার্টি অফিস এবং কলকাতা-সহ শহরতলিতেও সম্পত্তি থাকার দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল সম্পত্তি কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, একসময় গৃহপালিত পশু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুবিদ আলি। পরে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ, সেই সময় থেকেই একের পর এক জমি ও সম্পত্তির মালিক হন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন হিন্দু মহিলাকে জোর করে বিয়ে করা এবং তাঁদের সম্পত্তি দখলের বিষয়ে। স্থানীয়দের একাংশ এমন দাবি করলেও, এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা আদালত-স্বীকৃত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তবুও এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বেড়েছে।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু সরকারের আমলে বড় সাফল্য! কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৬ লক্ষ টাকা উধাওয়ের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা সেই রহস্যময় মুখ কে? এক বছর পর কি অবশেষে সামনে আসতে চলেছে পুরো চ*ক্রের আসল গল্প?
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সুবিদ আলি ঢালি পলাতক বলে জানা যাচ্ছে। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এদিকে তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসার পর গোসাবা জুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সকলের।






