এবার রাজ্যের নানান বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করোনার অব্যবহৃত টিকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এর জেরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নানান বেসরকারি হাসপাতালগুলি। সেখান নেওয়া করোনার টিকার প্রথম ডোজ নেওয়া মানুষেরা এবার দ্বিতীয় ডোজ কোথা থেকে নেবেন, এই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এদিকে, টিকা উৎপাদনকারী সংস্থা সেরাম ও ভারত বায়োটেক এখনও পর্যন্ত বেসরকারি ক্ষেত্রকে কোনওরকম কথা দিতে পারেনি। বরং, বেসরকারি ক্ষেত্রে টিকা উৎপাদনে এখনও পাঁচ-ছ’মাস দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছে উক্ত সংস্থা।
আগামী ১লা মে থেকে দেশে তৃতীয় পর্বের টিকাকরণ শুরু হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালকে এই পর্বের জন্য সেরাম ও বায়োটেক থেকে সরাসরি তাদের নির্ধারিত দামে টিকা কিনতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ ২৩শে এপ্রিল রাজ্যগুলিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের কাছ থেকে অব্যবহৃত টিকা ফেরত নিয়ে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবের নির্দেশ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্য স্বাস্থ্যকর্তারা। ফলে ১ মে থেকে বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ভ্যাকসিন মিলবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এও প্রশ্ন উঠছে যাঁরা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করোনার প্রথম ডোজ পেয়েছেন তাঁরা দ্বিতীয় ডোজের টিকা কোথা থেকে নেবেন?
আরও পড়ুন- করোনার ছোবলে পড়লেন মহাগুরু! কোভিড পজিটিভ মিঠুন চক্রবর্তী
এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানান, “কেন্দ্র আমাদের যে অ্যাডভাইসরি পাঠিয়েছে আমরা তা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে জানিয়ে দিয়েছি”। বেসরকারি হাসপাতালগুলির প্রশ্ন, যাঁরা তাদের থেকে প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাঁরা তো এবার আমাদের হাসপাতালে ভিড় করবেন ভ্যাকসিন পেতে। তখন আমরা কী করব? জবাবে প্রধান সচিব জানান, “বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তায়। একটা উপায় বের করতে হবে”। তাঁর কথায়, আরও সরকারি ভ্যাকসিন কেন্দ্র বাড়াতে হবে।
এমন একটা ঘটনা যে হতে চলেছে, তা আগেই আন্দাজ করেছিল বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের তরফে রূপক বড়ুয়া বলেন, “সরকার বলছে স্টকে থাকা সব করোনা ভ্যাকসিন ফেরত দিতে হবে। তাহলে যাঁরা প্রথম ডোজ আমাদের থেকে কিনে নিয়েছেন, তাঁরা দ্বিতীয় ডোজ কীভাবে নেবেন? আমরাও এই প্রশ্ন তুলেছিলাম। বিশেষ করে সাপ্লাই চেন নিয়ে। কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু জানতে পারিনি”।
এদিকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পয়লা মে থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হব। এইভাবেই সামাল দেওয়ার মধ্যেই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।





