অনিশ্চয়তা, হতাশা আর অন্ধকারে ডুবে থাকা হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর মুখে যেন একটু আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ লড়াই, আন্দোলনের পর এবার হয়তো একটা সুরাহা মিলতে চলেছে তাঁদের সমস্যার। সরকারি চাকরি হারিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হওয়া এই মানুষগুলোর কষ্ট অনেক দিনের। সকাল-সন্ধ্যা আন্দোলন, অনশন, রাস্তা অবরোধ—সবই হয়েছে। তবু প্রশাসনের দিক থেকে নিশ্চিত কোনও আশ্বাস মেলেনি এতদিন। তবে এবার সেই প্রতীক্ষার যেন শেষ হতে চলেছে।
সোমবারের সকালটা যেন একটু আলাদা। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ যেন একটু বেশি চাঞ্চল্যকর পরিবেশ কলকাতার শিক্ষাভবনে। দীর্ঘ সময় ধরে যে আন্দোলন চলছিল করুণাময়ী চত্বরে, তা আজ পৌঁছেছে প্রশাসনিক স্তরের দরজায়। সরকারি মহলে খবর ঘুরছে—আজ দুপুরেই হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত। শিক্ষাদফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নাকি আজ নিজে থেকে বৈঠকে বসতে চলেছেন চাকরিহারাদের সঙ্গে। ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে—আবার কি পুরনো জায়গায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল চাকরি হারানোদের?
সোমবার দুপুর ১টার সময় চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল এবং আরও ৫ জন সদস্য। সূত্রের খবর, বৈঠকে আলোচনা হতে পারে একাধিক দাবির বিষয় নিয়ে, যার মধ্যে অন্যতম, যোগ্য প্রার্থীদের জন্য আর কোনও নতুন পরীক্ষা নয়। চিন্ময়বাবুর দাবি, যাঁরা আগে যোগ্য ছিলেন, তাঁদের ফের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে কেন? বরং সরকার যেন বিকল্প পদ্ধতিতে তাঁদের পুনর্বহাল করার কথা ভাবে।
চাকরিহারাদের দাবি, এতদিন শুধু আন্দোলন করে গিয়েছেন, এবার তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান চাইছেন। রবিবারই কালীঘাট থানার অনুমতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়েছে সাত দফা দাবি সহ একটি স্মারকলিপি। করুণাময়ীতে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে আলোচনার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। যদিও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন, সেই চিঠিতে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে তিনি আশ্বাস দেন, সরকার আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : ‘বাংলাদেশের দু’টো চিকেন নেককে আঘাত করব’—চিন-বন্ধুত্বে ক্ষুব্ধ হিমন্ত, শেয়ার করলেন বাংলাদেশের মানচিত্র!
আজকের এই বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হতে পারে বহু চাকরিহারার ভবিষ্যৎ। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু রোববার রাতেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার আলোচনায় রাজি। তবে তিনি এও বলেন, কিছু অংশের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাই আজকের বৈঠকে আদৌ কোনও সুসংবাদ মিলবে কিনা, সেটাই দেখার। চাকরিহারা অংশ আশাবাদী—বহুদিনের লড়াই হয়তো অবশেষে কোনও নির্দিষ্ট রাস্তায় পৌঁছাবে। এখন শুধু অপেক্ষা, দুপুর ১টার সেই বৈঠকের ফলাফলের দিকে।






