কোন স্কুলে কত শতাংশ ফি (School Fees) ছাড় দেওয়া হবে তা বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিক করবে শিক্ষক (Teacher) ও অভিভাবকদের (Guardian) নিয়ে গঠিত কমিটি। সোমবার এই রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
করোনা পরিস্থিতিতে ফি দেওয়া নিয়ে বেসরকারি স্কুল (Private School) কর্তৃপক্ষ বনাম অভিভাবকদের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল। সেই মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানায়, প্রতিটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান ভিন্ন। সেক্ষেত্রে সার্বিকভাবে ফি হ্রাসের কোনও নির্দেশ সেভাবে কার্যকরী নাও হতে পারে। তাই অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত প্রতিনিধি কমিটি এই বিষয়টি ঠিক করবে।
এর আগেই ফি নিয়ে সমস্যা মেটাতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল এই বেঞ্চ। সেই কমিটিতে স্কুলের প্রিন্সিপাল থাকবেন এবং থাকবেন ৩ জন সিনিয়র টিচার ও তিনজন অভিভাবক। এই কমিটিতে অভিভাবকদের যে প্রতিনিধিরা থাকবেন তাদেরকে মনোনীত করা চলবে না, লটারির মাধ্যমে অভিভাবককে বেছে নেওয়া হবে এরকমটাই নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।
এছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস-এর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিকে নিয়োগ করেছিল হাইকোর্ট তাদের কাছে স্কুলগুলিতে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে বলেছিল উচ্চ আদালত। এখনও পর্যন্ত সব স্কুল এই হিসাব জমা দেয়নি। তাদেরকে অতি শীঘ্রই এই কাজটি সম্পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। আর এই হিসাব অভিভাবক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরতে হবে। তারপর এই কমিটি সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে কতটা ফি ছাড় দেওয়া উচিত তার হার নির্ধারণ করবে।
এছাড়াও যেসব স্কুল আগেই ফি ছাড় দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সেই ফি ছাড়ের অঙ্ক কতটা যুক্তিযুক্ত তা নির্ধারণ করবে শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি। সেইসঙ্গে উচ্চ আদালত অনুরোধ করেছে, যে সকল অভিভাবক এই পরিস্থিতিতেও পুরোপুরি ফি দিতে সক্ষম তারা যেন দেন। পরিস্থিতির সুযোগ যেন না নেন।
যদিও হাইকোর্ট আগেই জানিয়েছিল আজ মঙ্গলবার ১৫ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৮০% ফি সকল অভিভাবককে মিটিয়ে দিতে হবে এবং এ নিয়ে স্কুল গেটের সামনে কোন বিক্ষোভ ধরনা চলবে না।
তবে যেসব সিএনআই পরিচালিত স্কুল শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করবে তাদের আয় ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য আদালত নির্ধারিত বিশেষ কমিটির কাছে পেশ করতে হবে না বলে জানানো হয়েছে।






