সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানাল রাজ্য, হঠাৎ কেন এই আবেদন? কী জানাল শীর্ষ আদালত?

সুপ্রিম কোর্টে চলছে আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের মামলা। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তবে সেই শুনানি হয়ত হবে না, এমনটাই জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, শীর্ষ আদালতে রাজ্যের তরফে আর্জি জানানো হয়েছে যাতে এই মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। কী জানাল শীর্ষ আদালত?

গত মঙ্গলবারের শুনানিতে আর জি কর মামলায় স্ট্যাটাস রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছিল সিবিআই। সেই রিপোর্ট দেখে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়েছিলেন যে রিপোর্ট বেশ বিচলিত। তিনি এও জানান, সুপ্রিম কোর্ট ঘুমিয়ে নেই। তাদের এই তদন্ত করতে বেশ সময় কাগবে। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে না।

সেদিনের শুনানিতে রাজ্যকে বেশ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় শীর্ষ আদালতের। হাসপাতালে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য যে যা পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, মহিলাদের রাতে কাজ করায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তা শুনে বেজায় চটে যান বিচারপতি। বলেন, কেন মেয়েরা রাতে কাজ করতে পারবে না। তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব তো রাজ্যেরই।      

এবার সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের তরফে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আর্জি জানানো হয়েছে যাতে আর জি কর মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী সোমবার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সোমবার বিচারপতির বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের। আদৌ কী ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানি হবে নাকি না পিছিয়ে যাবে, তা জানা যাবে সোমবারই। বলে রাখি, আর জি কর মামলা দু-তিনদিন পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে রাজ্য।

আরও পড়ুনঃ মেডিক্যাল কলেজেই রাতভর চলত পার্টি, সঙ্গে দেদার মদ্যপান, রাতবিরেতে মনোরঞ্জনের জন্য হুমকি দিয়ে ডাকা হত ছাত্রীদের, বিস্ফোরক অভিযোগ সন্দীপ-ঘনিষ্ঠ অভীকের বিরুদ্ধে

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার রুমে তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন সকল স্তরের মানুষ। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক সিভিক ভলান্টিয়ার, আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। আগামী শুনানি নিয়ে শীর্ষ আদালত আদৌ কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার!

RELATED Articles