মেডিক্যাল কলেজেই রাতভর চলত পার্টি, সঙ্গে দেদার মদ্যপান, রাতবিরেতে মনোরঞ্জনের জন্য হুমকি দিয়ে ডাকা হত ছাত্রীদের, বিস্ফোরক অভিযোগ সন্দীপ-ঘনিষ্ঠ অভীকের বিরুদ্ধে

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে দাদাগিরি, ভয় দেখানো, তোলাবাজি, দুর্নীতি, এমন নানান অভিযোগ রয়েছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ধৃত সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে। ওই মেডিক্যাল কলেজের আরএমও ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এসএসকেএমে সার্জারি বিভাগের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি হন সার্ভিস কোটায়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগের জেরে কলেজ ও হোস্টেলে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বিশেষ কমিটি গঠন হয়েছে দুর্নীতিতে যুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এবার সেই কমিটির কাছেই অভীক দে-র বিরুদ্ধে জমা পড়ল বিস্ফোরক সব অভিযোগ।  

জানা গিয়েছে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রশাসনিক ভবনের উপর তলায় কলেজের গেস্ট হাউসে তিন-চারটে ঘর পাকাপাকিভাবে অভীকের কব্জায় ছিল। সেই ঘর বরাদ্দ ছিল অভীক, তার ডানহাত হিসেবে পরিচিত বিশাল সরকার ই উমর ফারুখের জন্য। সেই ঘরেই রাত কাটাতেন তারা। হোস্টেলের পড়ুয়াদের গভীর রাতে বাড়ি থেকে জিনিস আনতেও পাঠাতেন তারা, এমনটাই খবর।

সেই ঘরেই রাতভর চলত পার্টি। সঙ্গে দেদার মদ্যপান তো রয়েছেই। সেই সব পার্টিতে ভয় দেখিয়ে ডেকে আনা হত প্রথম, দ্বিতীয় বর্ষের চিকিৎসক ছাত্রীদের। তাদেরদিয়ে মদ-খাবার পরিবেশন করানো হত বলে অভিযোগ। জোর করে ছাত্রীদের থেকে নম্বর নেওয়া হত। আর সেই নম্বর চলে যেত রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাতে।রাতে তাদের সঙ্গ দিতে মনোরঞ্জন করতে ডাকা হত ছাত্রীদের। আর তাতে তারা রাজি না হলে হেনস্থা, ভয় দেখানো, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত অভীক বাহিনী, এমনই অভিযোগ জমা পড়েছে কমিটির কাছে।

জানা গিয়েছে, ওই কমিটিতে চিঠি দিয়ে অভীক ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন বহু ছাত্রী ও জুনিয়র চিকিৎসকরা। ছাত্রীরা জানিয়েছেন, সরস্বতী পুজোর আগে বেছে বেছে ছাত্রীদের ডাকা হত। পুজোর দিন অভীকের ঘনিষ্ঠ সিনিয়রদের সঙ্গে কোন ছাত্রী ঘুরতে যাবে, তা ঠিক করা হত। এমনকি, পরীক্ষায় কারা গার্ড দেবে, সেই তালিকাও ঠিক করত এই অভীক ও তার দলবল। এক চিকিৎসক তদন্ত কমিটিতে জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার বিরোধিতা করলে তাঁকে প্রতি বছরে একবার করে ফেল করানোও হয়েছে। হতাশ হয়ে আত্মহননের চেষ্টাও করেছিলেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

এখানেই শেষ নয়, কমিটির তদন্তে এও জানা গিয়েছে, নিয়মিত বর্ধমানের মর্গ থেকে মৃতদেহের ভিসেরা ও হাড় ৭-১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিহার, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে পাচার করা হত এবং এর পিছনেও ছিল অভীক বাহিনী। বর্ধমান মেডিক্যালের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “তদন্ত কমিটির কাজ চলছে। তাদের যা জানানোর জানাচ্ছি। এর বাইরে কিছু বলা যাবে না”।

আরও পড়ুনঃ আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে তৃণমূল কাউন্সিলরের ‘দাদাগিরি’! আন্দোলনে হুমকি-হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, ভয়ঙ্কর কাণ্ড দমদমে 

জানা গিয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনের মেডিক্যাল সুপারের ঘরে পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল প্রার্থী চিকিৎসক শর্মিলা সরকারের নির্বাচনী সভার আয়োজন করেছিল এই অভীকের দলবল। জুনিয়র চিকিৎসকদের সেখানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকি সন্দীপ ঘোষকে যখন আর জি কর থেকে বদলি করা হল, সেই সময় বর্ধমান থেকে অনেক মেডিক্যাল পড়ুয়াদের জোর করে কলকাতায় নিয়ে যায় অভীক ও তার বাহিনী আর তাদের বিক্ষোভ দেখাতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ জমা পড়েছে কমিটির কাছে।  

RELATED Articles