সকাল হতেই গায়ের ওপর যেন আগুনের চাদর! রোদের প্রখরতা এমন যে ছাতা-গামছা সব ব্যর্থ। অফিস যাত্রা হোক কিংবা স্কুল-কলেজ, রাস্তায় পা ফেললেই গায়ে ঘাম ঝরছে বালতির পর বালতি। শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, দুপুর গড়াতেই দোকানপাট বন্ধ। এমনকি ফুটপাতের চায়ের দোকানগুলোতেও দেখা যাচ্ছে কম ভিড়। গরমের এমন তাণ্ডবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বহু মানুষ, শিশুরা হচ্ছে ডিহাইড্রেটেড, বয়স্কদের হাঁসফাঁস ভাব বেড়ে গিয়েছে।
শহরে এখন ফ্যান, এসি আর আইসক্রিমই একমাত্র ভরসা। কিন্তু দিনের তাপমাত্রা এতটাই বেশি যে এসিতেও মিলছে না শান্তি। বিদ্যুৎচাপ বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও লো-ভোল্টেজ, আবার কোথাও লোডশেডিং। শরীর ঠান্ডা রাখতে বাড়ছে ঠান্ডা পানীয়র চাহিদা, তবে স্বস্তি এখনও অধরা। এই পরিস্থিতিতে শহরবাসী একটাই প্রশ্ন করছেন—এই গরম থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা যেমন পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমানে সোমবারও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। রবিবার দমদমের তাপমাত্রা ছিল ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সল্টলেকে ৪০.৪, কলাইকুন্ডায় ৪৩.৩, পানাগড়ে ৪০.১ এবং সিউড়িতে ৪১ ডিগ্রি ছুঁয়েছে পারদ। কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৪ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের থেকে ৩.৬ ডিগ্রি বেশি। তবে এখানেই শেষ নয়।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, সোমবার বিকেল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ায় হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। সেইসঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। অর্থাৎ সোমবার বিকেল হতেই কিছু জেলায় দেখা মিলতে পারে স্বস্তির বৃষ্টির। তবে কলকাতায় এখনও স্বস্তির বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে। তাপপ্রবাহ না থাকলেও গরমের অনুভব থেকে রেহাই নেই শহরবাসীর।
আরও পড়ুনঃ Astrology : চন্দ্র-মঙ্গল যোগে নীচভঙ্গ রাজযোগ, মেষ-বৃষ-সিংহ সহ ৫ রাশির ভাগ্য ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ!
উত্তরবঙ্গের ছবিও আলাদা নয়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি আছে। আগামী ৬ দিন তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও ঝড়বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে রাজ্যবাসীকে।





