রাতভর তীব্র বৃষ্টি, বজ্রপাত, আর পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অঝোর ধারার বৃষ্টিতে সকাল গড়াতেই ভয়াবহ চিত্র দেখা দিয়েছে দার্জিলিং, মিরিক থেকে সুকিয়া পর্যন্ত। আকাশ থেকে বৃষ্টি ফোঁটা ফোঁটা নয়, যেন ফেটে পড়েছে পুরো পাহাড় অঞ্চল জুড়ে। স্থলপথে বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন, পর্যটকেরা আটকে পড়েছেন।
সকাল ১০টা ১০ মিনিটের শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মিরিকে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের, সুকিয়ায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ জনের। মিরিক থেকে ইতিমধ্যেই সাত জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে গোটা এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি এলাকা ও নদী লাগোয়া গ্রামগুলিতে ধস নেমে বহু বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। দমকল ও স্থানীয় প্রশাসন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার। রাস্তা ধসে যাওয়ায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাতভর জমে থাকা মেঘের ভারে একাধিক জাতীয় সড়কে ধস নেমেছে। রোহিনী রোড আপাতত পুরোপুরি বন্ধ। ঋষিখোলা ও পেডংয়ে যাওয়ার পথও বিচ্ছিন্ন। দশ নম্বর জাতীয় সড়কেও ধস নামায় যান চলাচল থমকে গেছে। দার্জিলিংয়ের বিশপ হাউসের কাছে পাথর সরানোর কাজ চলছে। স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে পাহাড় ঘেরা এলাকাগুলিতে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তবুও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক এবং জলঢাকা নদীগুলিতে জলের স্তর বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। নদীর উত্তাল স্রোতে ভেসে গেছে বহু ঘরবাড়ি, সেতু ভেঙে পড়েছে জায়গায় জায়গায়। গয়েরকাটা, নাগরাকাটাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে জলে। তিস্তা বাজার এলাকায় রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জলের ধারা। ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ Durga Puja 2025 : দুর্গাপুজো’তে বৃষ্টি ও GST-এর মধ্যেও কলকাতার শপিং মল ও রেস্তরাঁয় রেকর্ড ভিড়! রাজ্যজুড়ে ব্যবসা ৬৫ হাজার কোটি টাকা!
উত্তরবঙ্গে আটকে পড়া এক পর্যটক জানালেন, “সন্ধে সাতটা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, তারপর সারারাত আকাশ আর থামেনি। এমন বজ্রপাত জীবনে দেখিনি। জানলার কাচ কেঁপে উঠছিল,” — তাঁর গলায় তখনও আতঙ্কের ছাপ। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রত্যেক আটকে পড়া ব্যক্তি নিরাপদে ফিরছেন। তবু পাহাড়ে এখনও মেঘের ছায়া ভারী, বৃষ্টির থামার কোনও লক্ষণ নেই।





