কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে একের পর এক আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে। গ্রীষ্মের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে যখন মানুষ প্রচণ্ড গরমের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গরমের দাবদাহে কষ্ট পাচ্ছিলেন যারা, তারা কিছুটা স্বস্তির আশা করতে পারেন। তবে সেই স্বস্তির বৃষ্টি কতটা স্বস্তি দেবে আর কতটা দুর্যোগ ডেকে আনবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় বিকেলের পর থেকে মেঘ জমছে, কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে। ফলে গরম থেকে খানিকটা রেহাই মিললেও, সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা— হঠাৎ বৃষ্টি, ঝড় এবং শিলাবৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।
একদিকে যেমন কৃষকরা শিলাবৃষ্টির ফলে চাষের ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত, অন্যদিকে সমুদ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করা মৎস্যজীবীদের জন্যও এসেছে সতর্কবার্তা। আবহাওয়া দফতরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিছুদিনের জন্য সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা এরই মধ্যে গভীর সমুদ্রে চলে গিয়েছেন, তাদের দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষকেও বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনে বাইরে বেরোতে না যাওয়ার জন্য। বিশেষত, দুপুরের পর থেকে বিকেলের দিকে যেকোনও সময় আকাশের চেহারা বদলে যেতে পারে। তাই অকারণে রাস্তায় বেরোলে বিপদ হতে পারে।
আজ, ২১ মার্চ, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া ও ঝাড়গ্রামে ঝড়বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদেও ঝোড়ো হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে গাছপালা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২২ মার্চ, অর্থাৎ শনিবার বীরভূম, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের দু-একটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়িতেও ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বৃষ্টির ফলে গরম কিছুটা কমতে পারে, তবে বেশি দিন নয়।
আরও পড়ুনঃ ২৭শে মার্চ বৃহস্পতি প্রভাব, ভাগ্য বদলের সংকেত! কোন রাশির জন্য সুসংবাদ, কার জন্য সতর্কবার্তা?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়বৃষ্টির ফলে আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিলবে ঠিকই, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই ফের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরুতেই ফের গরমের দাপট বাড়বে। ফলে একদিকে যেমন এই স্বস্তির বৃষ্টি অনেকের জন্য সুখবর, অন্যদিকে কৃষকদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার, প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনা কতদিন ধরে বজায় থাকে!





