গরমের পর বৃষ্টির স্বস্তি যতটা আশার, ততটাই উদ্বেগের কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে জুনের শেষ সপ্তাহে। রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই মেঘলা আকাশ, হালকা বৃষ্টিতে ভিজছে শহর ও গ্রাম। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, এই সামান্য ভেজা পরিবেশ শীঘ্রই ঘনঘোর বৃষ্টিতে রূপ নিতে পারে। রথযাত্রার ঠিক আগে এবং রথের দিনই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা করছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টি শুরু হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, হাওড়া ও হুগলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিও হতে পারে। কলকাতাতেও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যদিও বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হতে পারে।
বুধবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলি— এই জেলাগুলিতে অতিরিক্ত সর্তকতা জারি হয়েছে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবারও এই জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদ সোমনাথ দত্ত।
২৭ জুন, শুক্রবার রথযাত্রার দিন গোটা রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সেই দিন ‘ওয়াইড স্প্রেইড রেইন’ অর্থাৎ রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টি হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূম জেলাগুলিতে বিশেষভাবে ভারী বৃষ্টির সর্তকতা জারি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং-এও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Mur*der case :১৭ বছরের মেয়েকে খু*ন! পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন শিক্ষক পিতা!
আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস মাথায় রেখে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা রথযাত্রায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বা বাইরে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ছাতা, রেইনকোট এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বজ্র-সহ বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা, ট্রাফিক, বিদ্যুৎ এবং গৃহপালিত পশুপাখির সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এই সপ্তাহে।





