আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি দিয়েই শুরু হতে চলেছে পিতৃপক্ষ। এ বছর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তারপরই সূচনা হবে দেবীপক্ষের। মহালয়ার তর্পণ সেরে যখন উৎসবের আবহে মেতে উঠবে গোটা রাজ্য, তখনই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই আনন্দে কি বাধা হয়ে দাঁড়াবে বৃষ্টি? উৎসবের দিনগুলোতে দুর্যোগ নেমে আসবে কি না, সেই দুশ্চিন্তাই এখন ঘুরছে সবার মনে।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কখনও ভারী, কখনও মাঝারি, আবার কোথাও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। তার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে শরতের রোদের ঝলকানি। আকাশে পরিষ্কার আবহ আর মাঝে মধ্যে ঘন মেঘ, যেন আগমনী সুর বাজিয়ে চলেছে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমী অক্ষরেখা রাজ্য ছেড়েও গিয়েছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে বৃষ্টি থেমে যাবে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, প্রায় সর্বত্রই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বরং আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
শনিবার রাতে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী অক্ষরেখা এখন ওড়িশার উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেটি আবার বাংলার দিকে সরে আসতে পারে। ফলে রবিবার ও সোমবার বৃষ্টি খুব একটা না হলেও মঙ্গলবার থেকে আবার ঝড়বৃষ্টি বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তার পরে ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখনকার হিসাবে, রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম হলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও বাড়বে। মঙ্গলবার মৌসুমী অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের কাছাকাছি চলে এলে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। বুধবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উত্তরবঙ্গেও শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে রবিবার ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Donald Trump : হঠাৎ নিখোঁজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা, তবে কি শারীরিক অসুস্থতা নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য রহস্য?
আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই মেঘ, রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরি চলতে পারে। ইতিমধ্যেই অগস্টের শেষ শনিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় এক ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৪ ডিগ্রি, প্রায় স্বাভাবিকের কাছাকাছি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ আর সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ। সব মিলিয়ে, পুজোর আগের আবহাওয়া কেমন হবে তা নিয়ে রাজ্যবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়ছে।





