রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলা ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। একের পর এক অযোগ্য প্রার্থীর নাম সামনে আসছে, আর তাতে রাজনৈতিক মহলে চাপে পড়ছে শাসক দল। এসএসসি সম্প্রতি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গিয়েছে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে কীভাবে এই অনিয়ম চলল?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যায় এসএসসি মোট ১৮০৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে। যাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অ্যাডমিট কার্ডও কমিশন বাতিল করেছে। তালিকায় দেখা যাচ্ছে, শুধু সাধারণ পরীক্ষার্থীরাই নন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পদাধিকারী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনরাও রয়েছেন এই অযোগ্য তালিকায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আরও প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এতদিন ধরে এই চাকরিগুলো টিকে ছিল?
সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির মধ্যে একটি হল পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক এবং বর্তমানে বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের পুত্রবধূ শম্পা ঘোষের নাম। তালিকায় তাঁর অবস্থান ১২৬৯ নম্বরে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, শম্পা ঘোষ উত্তর ২৪ পরগণার নৈহাটির একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। যদিও নাম প্রকাশের পর ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি স্পষ্ট জানান, “এ বিষয়ে আমি এখন কোনও মন্তব্য করব না।”
শুধু নির্মল ঘোষের পরিবারের নাম নয়, একই তালিকায় রয়েছে আরও একাধিক নেতানেত্রীর আত্মীয়দের নামও। জানা গিয়েছে, রাজপুর-সোনারপুরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষও এই অযোগ্য তালিকায় আছেন। তিনি রাজপুরের একটি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। এসএসসি জানিয়েছে, ২০১৬ সালের প্যানেলে বহু রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য অনিয়মিতভাবে চাকরি পেয়েছিলেন। এই প্রকাশিত তালিকা সেই অস্বস্তিকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল।
আরও পড়ুনঃ Weather: শরতের আকাশে মেঘের ঘনঘটা, ভারী বৃষ্টিতে পিতৃপক্ষের সূচনা, দেবীপক্ষেও শঙ্কা বৃষ্টির
রাজনৈতিক মহলের দাবি, অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ্যে আসার ফলে শাসক দলের ইমেজে বড়সড় ধাক্কা লাগল। ইতিমধ্যেই চাকরি দুর্নীতি নিয়ে বিরোধীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। এরই মধ্যে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে আসায় সেই চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত বিধানসভা ভোটের আগে এই বিতর্কিত তালিকা যে শাসক দলের জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।





